উত্তরপূর্ব দিল্লিতে চারদিনের ভয়াবহ দাঙ্গায় ২১ জনের প্রাণহানির পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজধানীবাসীকে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার বিকালে এক টুইটে তিনি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

“ভাই ও বোনদের কাছে আমি শান্তি ও সবসময় ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করছি,” টুইটে এমনটাই লেখেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মোদী।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) ঘিরে রোববার থেকে শুরু হওয়া এ রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় আহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, সিএএবিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে ক্ষমতাসীন এক বিজেপি নেতার বক্তব্যের পরপরই এ দাঙ্গা বেধে যায়। বিজেপির ওই নেতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের পর দিল্লির আন্দোলনকারীদের ‘পিটিয়ে উঠিয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন।

দিল্লির এ দাঙ্গার কারণে ভারতে ট্রাম্পের দুইদিনের সফরও অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বলে মত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। ট্রাম্প ভারত ছাড়ার পর থেকেই পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়তে শুরু করে।

বুধবার দিল্লিবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বানের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথাও জানিয়েছেন মোদী। এদিন পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। দোভাল মঙ্গলবার রাতে সংঘাতমুখর এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছিলেন। ওইদিন বিবদমান বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে লাগাতার পাথর ছোড়াছুড়ি, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকালেও বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও পাথর নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। ভজনপুরা এলাকার একটি ব্যাটারির দোকানে আগুন দেয়া হয়েছে। দোকানটি ভাংচুরের পর জ্বলতে থাকা ব্যাটারিগুলোকে রাস্তায় ফেলা হয়েছে।

দিল্লির চান্দ বাগ এলাকার একটি নর্দমা থেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা অঙ্কিত শর্মার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে একটি সেতুর ওপর একদল উন্মত্ত লোক তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চারদিনেও সহিংসতা বন্ধে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনার করেছেন কংগ্রেসপ্রধান সোনিয়া গান্ধী। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও চেয়েছেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি পুলিশের ভূমিকায় ভারতের উচ্চ আদালতও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সহিংস এলাকাগুলোর বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পুলিশকে দেখামাত্র গুলিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

দাঙ্গাকবলিত দিল্লির উত্তরপূর্বাঞ্চলে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এসেছে। বুধবার সকালে এই এলাকাগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদশী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

টুইটারে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরিস্থিতিকে ‘ভয়ানক’ বলে বর্ণনা করে দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে আশু সেনাবাহিনী মোতায়েন ও কারফিউ জারি করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।

মঙ্গলবার রাতভর কেজরিওয়ালের বাসভবনের সামনে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বহু লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তারা সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে জলকামানও ব্যবহার করতে হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য