প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায়“জমি আছে ঘর নাই” প্রকল্পের পাকা ঘর পেয়েছে বহুল আলোচিত ফেলানীর পরিবার। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামে ফেলানীর বাবার বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান।

ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম নুরু এবং মা জাহানারা বেগম। ঘর নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাসুম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের চৌধুরীহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত হয় কিশোরী ফেলানি। ফেলানির মরদেহ দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা কাটাতারে ঝুলে থাকার পর ২ দিনব্যাপী পতাকা বৈঠকের মাধমে ৮ জানুয়ারি বিএসএফ বাংলাদেশি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

৯ জানুয়ারি লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। ফেলানির এ খবর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচার হলে সাড়া বিশ্বে তোলপার শুরু হয়। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চরম নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় ফেলানি।

বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, সংগঠন এবং বিজিবির পক্ষে থেকেও ফেলানি হত্যার বিচারের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত সঠিক বিচার না পেয়ে হতাশ পরিবারটি। এখন শুধু নীরবে কাঁদেন তারা। পরিবারের দাবি তাদের কলিজার টুকরাকে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক স্বাস্তি দেয়া হোক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য