চীনে আরও দেড়শ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস, মৃত্যু বাড়ছে চীনের বাইরেও। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিতে দ্রুত নতুন রোগী বাড়তে থাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বিশ্বে আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১৯ জনে, যাদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে চীনের বাইরে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নতুন এ করোনাভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। আর এর সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯।

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস মানুষের দেহে এসেছে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। এ রোগের কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই।

আক্রান্ত রোগীদের লালা ও শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে চীনা বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, নভেল করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়াচ্ছে, তাতে সার্সের চেয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার সঙ্গেই এর মিল পাওয়া যাচ্ছে বেশি। আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও সহজে এবং দ্রুত গতিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এতদিন নতুন করোনাভাইরাসের প্রকোপ চীনের মধ্যেই ছিল বেশি। কিন্তু গত কয়েক দিনে চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালি ভাইরাস উপদ্রুত এলাকাগুলো অবরুদ্ধ করে ফেলার মত কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, কিন্তু মৃত্যুর মিছিল থামছে না।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৪০৯ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৬৪৮ জন।

সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ১৫০ জনে। আর ২৯টি দেশ ও তিনটি অঞ্চল মিলিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৯ হাজার ৩৫৬ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

রোববার চীনে মোট ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ করোনাভাইরাসে, মৃত্যুর ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে হুবেই প্রদেশেই। চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৫৯২ জনে।

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে রোববার, সব মিলিয়ে চীনের বাইরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ জন। তাদের মধ্যে ইরানে আটজন, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাতজন, জাপানে চারজন, ইতালিতে তিনজন, হংকংয়ে দুইজন এবং ফিলিপিন্স, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য