দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শফিকুল ইসলাম চঞ্চল নামে এক চাষী নতুন জাতের বল বরই ফলের বাগান করেছে। নাম দিয়েছেন “সুন্দরী” বরই। বাগানের গাছে গাছে প্রচুর বরই ধরেছে ঝাঁকে-ঝাঁকে। সেকি এক প্রাকৃতিক অপুর্ব দৃশ্য।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের শীবপুর গ্রামের চাষী চঞ্চল জানালেন, গত বৈশাখ মাসে তার পতিত জমির ঝাড়-জঙ্গল পরিস্কার করে ৬০ শতাংশ জমিতে ৩০০ বরই গাছ রোপন করেন।

সে একজনকে কাশ্মিরী বরই গাছ নিয়ে আসতে বললে ভ’ল করে তিনি ওই বল বরই গাছের চারা নিয়ে এনে দেয়। প্রতি পিচ ৫৭ টাকার মূল্যের ওই চারা গুলি সে রোপনের পর পরিচর্যা করতে থাকেন। এতে তার ব্যয় হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

গত মাঘ মাস থেকে চঞ্চল ওই বাগানের বরই বিক্রি করা শুরু করেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সে প্রতি মন ৪ হাজার টাকা দরে ১৫ মন বরই বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন। তার ধারনা এ মৌসুমে আরও ১৫ মন বরই ওই বাগান থেকে আসার সম্ভানা রয়েছে।

বরইগুলি দেখতে ঠিক আপেলের মত। উপরের অংশে রয়েছে হালকা সিঁদুর রং। বরই খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। চাষী শফিকুল জানান, বরই বিক্রি করতে তাকে কোথাও নিয়ে যেতে হয়নি। ক্রেতারা এসে বাগান থেকে পাইকারী নিয়ে যাচ্ছেন। এ বরইয়ের প্রচুর চাহিদা।

বরই বিক্রি ছাড়াও সে নিজে এবারে চারা তৈরী করছে বিক্রির জন্য। ওই জাতের তার বাগানের বরই আগামীবার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ফলন হবে বলে তিনি ধারনা করছেন। এ প্রতিনিধিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম ও ফাত্তাউজ্জামান জানালেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতিপূর্বে বিভিন্ন জাতের বরই বাগান হয়েছে।

তবে বল সুন্দরী জাতের বরইয়ের বাগান এই প্রথম চঞ্চলের বগানে চাষ করা হয়েছে। চাষীকে সময় মত পরিচর্যা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বরইগুলি খুবই সুন্দর এবং বাজারে এর বেশ চাহিদা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য