দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আমের মুকুলের সু-মিষ্ট ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। এ যেন মুকুলের স্বর্গ রাজ্য। মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ বিমোহিত করছে সকলের মনকে এবার শীতের প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় বেশ আগে থেকেই মুকুলে মুকুলে শোভা পাচ্ছে পুরো উপজেলায় আম গাছগুলো।

মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পণ এ অপরুপ প্রকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর এক মুহূর্ত। ছয় ঋতুর এই বাংলাদেশে পাতাঝড়া ষড়ভুজা বসন্ত। আবহমান বাংলার সৌন্দর্যের রাজা বলে পরিচিত গ্রীষ্মকাল। ফাল্গুনের ছোঁয়ায় পলাশ- শিমূলের বনে লেগেছে আগুন রাঙা ফুলের মেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এলো বাংলার বুক মাতাল করতে ঋতুরাজ বসন্ত।

রঙিন – বন ফুলের সমারোহ প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে বীরগঞ্জ উপজেলার আম বাগানগুলো। আমের মুকুলে ভরপুর আর ঘ্রাণে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। আমের মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো প্রায় ৭০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল। বাগান মালিক, কৃষিবিদ, আমচাষী আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুল থাকলে এ উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে।

আমচাষী ও বাগান মালিকরা বাগান পরিচর্চা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তারা মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। সারিবদ্ধ গাছে ভরপুর আমের মুকুল যেন শোভা ছড়াচ্ছে তার নিজস্ব মহিমায়।

এ উপজেলায় ফজলি,গোপাল ভোগ, আমরুপালী, লেংড়া,গুটিসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযোক্ত হওয়ায় চাষিরা নিজ উদ্যোগে প্রথমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান সৃজন করলেও বর্তমানে তার নিজেরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুফলও পেয়েছেন অনেকেই।

আমের পাশাপাশি বাউকু, মাল্টা, থাই পেঁয়ারাসহ বিভিন্ন চারা রোপন করেছেন তারা। আম চাষে সফল কৃষক কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের সাদিকুল হক মিললন জানান, পুরাপুরিভাবে এখনো সব গাছে মুকুল আসনেনি। কয়েকদিনের মধ্যে সকল গাছে মুকুল আসবে। আমি এ আম থেকে অনেক টাকা আয় করেছি। মিললনের মতো বীরগঞ্জ উপজেলার অনেকই আমের বাগান তৈরি করেছেন। তারা জানান, ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন আম চাষিরা।

সুবিধাভোগীদের সুফল দেখে চাষিরা আম চাষে উৎসাহিত হয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন বাগান সুজন করছেন। ধীরে ধীরে এ উপজেলা জুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। উৎপাদিত আম মানসম্মত হওয়ায় চাহিদাও বাড়বে অনেক।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, এ উপজেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এবছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার আশাবাদী। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আম চাষিদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য