পরিবারের চাহিদা মিটাতে গিয়ে অধিকাংশ পুরুষই নিজের যত্নের দিকে গুরুত্ব দেন না। তাই দেখা দিতে পারে দুর্বলতা ও নানান রোগ। পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের মাধ্যমে এসব সমস্যা দূরে রাখা যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটা প্রতিষ্ঠিত যে, জিনগত ও জৈবিক কারণে নারীদের তুলনায় পুরুষের নানান রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার বা লিভারের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সঠিক ভিটামিন ও পর্যাপ্ত সম্পূরক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এসব সমস্যার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: দীর্ঘজীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, এটা শরীরকে নানান রোগ ও কয়েক ধরনের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভিটামিন জাতীয় খাবার (ভিটামিন এ, সি, ই, বেটাক্যারোটিন, লাইকোপিন, সেলেনিয়াম ও জিক্সান্থিন) পুরুষের পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া দরকার।

ভিটামিন ডি: নাগরিক জীবনধারায় দিনের আলোতে বেশিরভাগ সময় কাটানো হয় না। ফলে শরীরে ভিটামিন ডি’য়ের স্বল্পতা দেখা দেয়। ভিটামিন ডি কেবল ক্যালসিয়াম শোষণে কাজ করে না বরং হাড় শক্ত করে। তাছাড়া এটা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের হাত থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করে।

ম্যাগনেসিয়াম: ম্যাগনেসিয়াম শরীরে নানান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেহের প্রায় সকল কার্যকারিতার জন্যই ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজন আছে। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। ডায়াবেটিস ও হতাশা দূর করতেও সাহায্য করে এই খনিজ উপাদান।

ফলিক অ্যাসিড: বা ফোলেইট, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি। এটা ‘হোমোসিস্টিইন’য়ের গঠন প্রতিরোধ করে হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। রক্তে হোমোসিস্টিন’য়ের মাত্রা বেশি থাকলে তা হৃদরোগ ও রক্তকোষের রোগের উপর প্রভাব রাখে। তাই উচ্চ কোলেস্টেরলে ভোগা রোগীদের উচ্চ মাত্রার ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বি.দ্র. ব্যক্তি ভেদে শরীরে পুষ্টি ও ভিটামিনের চাহিদা ভিন্ন হয় তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সম্পূরক বা ‘ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য