জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কোয়ারেন্টিনে রাখা ডায়মন্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরীর দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

অশিতীপর ওই দুই যাত্রীকে গত সপ্তাহেই জাহাজ থেকে নামিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়; জানিয়েছে বিবিসি।

তারা দুই জনই জাপানের নাগরিক বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের দুই জনের শরীরেই নভেল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল।

তাদের মধ্যে ৮৭ বছর বয়সী পুরুষ যাত্রী হৃদরোগে ও ব্রঙ্কাইটিসে ভুগছিলেন আর ৮৪ বছর বয়সী নারী যাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিউমেনিয়া লেখা হয়েছে বলে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এর পাশাপাশি ডায়মন্ড প্রিন্সেসে কাজ করতে গিয়ে দেশটির আরও দুই জন সরকারি কর্মকর্তা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে। এদের একজন জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও অপরজন দেশটির মন্ত্রিসভা সচিবালয়ের কর্মকর্তা। এর আগে জাপানের আরও তিন জন কর্মকর্তা ওই জাহাজে কাজ করতে গিয়ে ভাইরাসটির সংক্রমণে আক্রান্ত হন।

জাহাজটি থেকে হংকংয়ে নেমে যাওয়া ৮০ বছর বয়সী আরেক যাত্রীর শরীরে নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ ধরা পড়ার পর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রমোদতরীটিকে ইয়োকোহামা বন্দরে পৃথক অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

দুই সপ্তাহের এই পর্যবেক্ষণ চলাকালে ডায়মন্ড প্রিন্সেসের তিন হাজার ৭০০ আরোহীর মধ্যে অন্তত ৬২১ জন আরোহীর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। চীনের মূলভূখণ্ডের বাইরে এই প্রমোদতরীটিতেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।

আক্রান্তদের শনাক্তের পর জাহাজ থেকে নামিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালগেুলোতে ভর্তি করা হয়।

জাহাজটির আরও কিছু যাত্রীর শরীরে ভাইসরাটির অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও তারা আক্রান্তদের সঙ্গে একই কেবিনে থাকায় তাদের আরও কিছুদিন কোয়ারেন্টিন রাখা হবে।

জাপানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ডায়মন্ড প্রিন্সেসের কভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২৯ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে; তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

১৪ দিন কোয়ারেন্টিন থাকার পর জাহাজটির যে সব যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বা যাদের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি তাদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার পর বুধবার থেকে তারা জাহাজ ছাড়তে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ‘সুস্থ’ যাত্রীর জাহাজটি থেকে নামার কথা রয়েছে।

আরও ১০০ যাত্রী ভাড়া করা বিমানে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন বলে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ডায়মন্ড প্রিন্সেস যাত্রী হয়েছিল বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের লোক। এই জাহাজটি বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য