বসন্তের বাতাস বইছে। ফুরফুরে মেজাজে বকুল তলা থেকে বিজয় সড়ক। কেউবা হতাশা চত্বরে গিয়ে একাকার। অনেকে প্রিয়তমাকে ছেড়ে হতাশ হয়েই আনমনে ফিরছে ক্যাফেটেরিয়ার পথে। এদিকে ঘড়িতে তখন ঠিক সন্ধ্যে সাতটা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে একদল তরুণ-তরুণীর হলদে শাড়ি-পাঞ্জাবিতে চোখ আটকে যাচ্ছে পথচারীদের। সবাই একটু-আধটু উঁকি দিয়ে দেখছে, কি হয়! ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদের আয়োজন যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) এবারই প্রথম।

ঝাড় বাতি, বাঁশের ডালা, কুলা, চালুন ও মাটির সরা, ঘড়া, মটকা আর বাহারি ফলের ঝুড়ি দিয়ে বিয়ের বাড়ির আমেজ তৈরির মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের (বিশ্ববিদ্যালয় ৮ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম সজল ও হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিবিএ অনুষদের শিক্ষার্থী সানজিদা জ্যোতির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’জনই ২০১৫-১৬ইং শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় সহপাঠীদের আয়োজনে দুজনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। বন্ধুবান্ধব ছাড়াও বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রদের পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, গায়ে হলুদের এ আয়োজন বর-কনের পরিবারের লোকজন কেউই করেনি। পুরো আয়োজনটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদেরই ক্যাম্পাসে। এরকম ঘটনা রীতিমত সাড়া ফেলেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার মুখে মুখে শোনা যায় এ খবর। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের এই উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রশংসা করছেন অনেকে। আবার অনেকেই ইচ্ছে প্রকাশ করে বলছেন, তিনিও পরিবারের সাড়া পেলে গায়ে হলুদের আয়োজন করবেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই। এ আয়োজনে অনেকই উৎসুক হয়ে কাজ করছেন।

বরের বন্ধু বিপুল জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়ে হলুদ হলেও এবারই আমাদের ক্যাম্পাসে প্রথম কারো গায়ে হলুদ। আমরা অনেক আগে থেকেই এমন প্লান করেছিলাম। তারই সুবাদে আমরা বন্ধুরা মিলে বন্ধুর বিয়ের মজা করার জন্য ক্যাম্পাসে এই হলুদের ব্যতিক্রমী আয়োজন।

এবিষয়ে বর সজল বলেন, ‘আমি সত্যি খুব আনন্দিত। বন্ধুরা আমার জন্য যে আয়োজন করেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সানজিদা জ্যোতির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়েছে সজলের। বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। সজল এবং জ্যোতির বাড়ি রংপুর জেলায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য