দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর বীরগঞ্জে নবজাতক কন্যা সন্তানকে হত্যা করে পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়ায় পাষন্ড মা কহিনূর বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে পাষন্ড মাতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ

জানা গেছে দ্বিতীয়বার কন্যা সন্তান প্রসব করায় পাষন্ড মা তার নবজাতক কন্যা সন্তানকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ নবজাতকের পিতার।

এই হৃদয় বিতারক মূমর্ষ ঘটনাটি ঘটেছে বীরগঞ্জ উপজেলা ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের নহাইল গ্রামে। নবজাতক সন্তানের পিতা আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, তার পাষন্ড স্ত্রী উপজেলার ১১ নং মরিচা ইউনিয়নের খড়িকাদাম গ্রামের মোহাম্মদপুর সুলতানের কণ্যা মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৫) এর সাথে গত ৫ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। বিয়ের পর কহিনুরের গর্ভে আমার প্রথম কন্যা সন্তান রিয়াম মনি জন্ম নেন। বর্তমানের প্রথম কন্যার বয়স (২বছর)।

পরবর্তীতে আমার স্ত্রী অর্থ্যাৎ পুনরায় অন্ত:সত্বা হলে গত ১৭ ফেব্রয়ারী ২০২০ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি নবজাতক কন্যা সন্তান প্রসব হয়। কিন্ত সেই কন্যা সন্তান হওয়াই অভিশাপ। আমি বাজারে খরচ করতে আসলে সুযোগ বুঝে স্ত্রী কহিনুর বেগম নবজাতক কন্যা সন্তানকে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী ধনীরের পুকুরে ভাসিয়ে দেয়।

আমি বাড়িতে ফিরে আমার স্ত্রী ও নবজাতক কে অনেক খোঁজাখুজি করে রাত ৯টায় ধনীরের পুকুরে নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে বীরগঞ্জ থানা সংবাদ দেই। সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) মো: আব্দুল ওয়ারেস এর নেতৃত্বে ওসি তদন্ত নবী হোসেন খান,এস,আই নিমাই কুমার রায়সহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতককে উদ্ধার করেন এবং নবজাতকের মাকে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসার জন্য পুলিশ পাহারায় ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নবজাতকের পিতা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইনের ৩০২ ধারায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যাহার মামলা নং ০৫ তারিখ ১৮/২/২০২০ ।

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার এস আই নিমাই কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান মামলায় একজনকে আসামী করায় স্ত্রী কহিনূর বেগমকে গ্রেফতার করা হয় ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য