দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর বিরলের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানজি দীঘির জীব- বৈচিত্র্য পরিবেশ রক্ষায় দাবিতে মানববন্ধন করেছে করেছে মাদ্রাসার ছাত্র ও এলাকাবাসীরা

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২ টার দিকে ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের দেওয়ানজি দিঘির পাড়ে এই মানবন্ধন কর্মসুচি পালন করেন । পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেওয়ানজি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন ।

মানববন্ধনে মাদ্রসার ছাত্র আব্দুল হক রনি বলেন , দেওয়ানজি মাদ্রসায় তিন শতাধিক ছাত্র রয়েছে । এই পুকুরের আয়ের টাকায় এতিমখানার ছাত্রদের থাকা খাওয়া হয়ে যায় । সম্প্রতি সময়ে কিছু দুষ্ট লোক এই পুকুরের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে সমস্ত মাছ মেরে ফেলেছে । আর পুকুরের পানি দিয়ে মাদ্রসার শিক্ষক আর ছাত্ররা ওজু আর গোসল করে । কিছু দুষ্ট লোকের কারনে এই পুকুরের পানি এখন দূষিত করার চেষ্ট করছে ।

এলাকাবাসী আফসার আলী বলেন , পুকুরের জীব বৈচিত্র নষ্ট করার জন্য এক দল কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করছে । বিভিন্ন সময়ে এই দেওয়ানজি দিঘির মাছ আর পানি নষ্ট করার পায়তারা করছে । আমরা চাই এই বিলাশ পুকুরের মাছ আর জীব বৈচিত্র্য রক্ষার্থে সরকার সহযোগিতা করবে । ঐতিহ্যবাহী দেওয়াজিদীঘি কতিপয় ভূমিদস্যু কর্তৃক দখলের পায়তারা চলছে।

জানা গেছে, ২৮২৮ দাগে, বর্তমান ৩০৯৯ নং দাগের উক্ত দীঘিটি জমিদার পূর্নেন্দু নারায়ন রায় দেবশর্মা দ্বারা ব্রিটিশ সরকারের আমলে প্রয়াত ঠিকাদার আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিনের নামে বিক্রি দলীল স্বরূপ হুকুমনামা প্রদান করেন। অতঃপর ১৯৫৫ সালে প্রয়াত শিক্ষা মন্ত্রী মোঃ ইউসুফ আলী সহ দীঘিটি জনগণের সম্পত্তি দাবী করে মামলা করলেও তৎকালীন কালেক্টর ১৯৫৭ সালে সে মামলাটি খারিজ করে ঠিকাদার আলহাজ্ব তমিজউদ্দিনের পক্ষে রায় প্রদান করেন। সে সময় থেকে সকল প্রকার খারিজ খাজনা ও দখল সহ তমিজউদ্দিন আহম্মেদের ওয়ারিসদের নিকট সকল কাগজপত্র বহাল তবিয়তে থাকলেও কতিপয় ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদার ২ বছর পূর্বে বিরল থানাধীন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ৪৮/১৮ অন্য মামলা দায়ের করে।

পরে ভূমিদস্যুদের কাগজপত্র দেখাতে বললে আইনানুগভাবে কোন বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। ২০১৯ সালে জুন মাসে সেই সকল ভুমিদস্যু ঐতিহ্যবাহী দীঘিটির প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মাছ দিনে দুপুরে লুট করে নেয়। এব্যাপারে বিরল থানায় প্রকৃত মালিকগণ দ্বারা একটি মামলা দায়ের করে। যার জিআর নং-৬/১২৭। আরো উল্লেখ থাকে যে আসামীরা এখন পর্যন্ত সেই মামলায় জামিনে রয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে। এতকিছু হওয়ার পরও উক্ত ভূমিদস্যুরা কোন এক অদৃশ্য শস্তির প্রভাব দেখিয়ে প্রকৃত মালিকদের হুমকি ধামকিসহ অবৈধ কর্ম করে দীঘিটি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য