বাংলাদেশি এক ট্রাকচালককে ভারতে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিক ও আমদানিকারকরা।

১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুইদিকে পাঁচ শতাধিক ট্রাক আটকা পড়ে। পরে দুই দেশের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের আলোচনার পর বিকাল ৩টা থেকে আমদানি-রফতানি ফের শুরু হয়।

আহত ট্রাকচালক আরিফ হোসেন বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী এলাকার মঈনুদ্দিনের ছেলে।

বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ট্রাকচালক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশি এক ট্রাকচালক রফতানি পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমাধীন চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরে যান। সেখানে পণ্য খালাস করে ওইদিন ফেরত আসতে না পেরে সেখানেই থেকে যান। কিন্তু ওইদিন রাতে তাকে ব্যাপক মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ খবর সোমবার সকালে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকচালক, আমদানি-রফতানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে আমদানি-রফতানি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান।

বাংলাদেশের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স ট্রেড সিন্ডিকেটের ম্যানেজার লাবু বলেন, ‘রবিবার প্রাণ আরএফএলের পণ্য নিয়ে বাংলাদেশি ট্রাকচালক আরিফ হোসেন ভারতের চ্যাংড়াবান্ধায় গিয়ে ডেলিভারি দিয়ে ফেরত আসতে পারেননি। তিনি রাতে ওপারে গাড়িতে ছিলেন। কিন্তু রাতে তাকে মারধর করে পকেটে থাকা ১৭শ টাকা, মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনের ডাক দেন। এতে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে আমদানি -রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ও পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, পুলিশ, বিজিবি ও পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে জিরো পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, পরিবহন শ্রমিক, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বিকাল ৩টার পরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।’

জানতে চাইলে বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) সোমেন কান্তি চাকমা জানান, ‘আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। যেহেতু বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক, তাই বিজিবি-বিএসএফ, পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে জিরো পয়েন্টে বৈঠক হয়। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করা হয়েছে।’

বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) খন্দকার মাহমুদ জানান, ‘বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ আরিফ হোসেনকে মারধর করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। এ ঘটনায় চ্যাংড়াবান্ধা পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও চালকের ছিনতাই হওয়া টাকা ও মোবাইল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি মেনে নিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বুড়িমারী আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বাবুল। বিকাল ৩টার পর থেকে আমদানি -রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য