নতুন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি চীনের হুবেই প্রদেশে নতুন রোগীর সংখ্যা তিন দিন কমার পর ফের বাড়তে শুরু করেছে, সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭৫ জনে।

এ পরিস্থিতিতে ভাইরাসের বিস্তার কমাতে হুবেই প্রদেশে চলাফেরার ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন সরকার।

এই হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই গতবছরের শেষে নভেল করোনাভাইরাস ছড়াতে শুরু করে। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

চীনে বিপুল সংখ্যক শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও অস্থিরতা বাড়ছে, জাপান আর সিঙ্গাপুর পড়েছে মন্দার ঝুঁকিতে।

সোমবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, রবিবার নতুন করে মারা যাওয়া ১০৫ জনের মধ্যে অন্তত একশো জন হুবেই প্রদেশের। এছাড়া এদিন নতুন করে আক্রান্ত হওয়া দুই হাজার ৪৮ জনের মধ্যে ১ হাজার ৯৩৩ জনই হুবেই প্রদেশের। এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭০ হাজার ৫৪৮ জনে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস।

ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নতুন কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে হুবেই কর্তৃপক্ষ। প্রদেশটির রাস্তায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যক্তিগত যান চলাচল। চীনে ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গোপন করাকে ফৌজদারি অরপাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে তার মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে তাইওয়ানে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তিনি ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শিহ-চুং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৬০ বছরের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন।

প্রতিবেশী তাইওয়ানে রোববার প্রথম এ ভাইরাসে আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এর আগে ফ্রান্স, হংকং, ফিলিপিন্স ও জাপানে চারজনের প্রাণ গেছে নভেল করোনাভাইরাসে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য