ক্যামেরুনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় একটি গ্রামে এক হামলার ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।

এনতুম্বো গ্রামে নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু বলে জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।

নিহতদের কয়েকজনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শুক্রবার হামলার ঘটনাটি ঘটলেও কোনো পক্ষ এর দায় স্বীকার করেনি, তবে এ ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে ক্যামেরুনের বিরোধীদল; জানিয়েছে বিবিসি।

তিন বছর ধরে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় ওই এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ক্যামেরুন সরকার, প্রায় তিন দিন পার হলেও ঘটনাটি নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা ওসিএইচএ-র কর্মকর্তা জেমস নুয়ান বিবিসিকে জানান, নিহতদের মধ্যে ১৪টি শিশু রয়েছে এবং তাদের নয় জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

নিহতদের মধ্যে গর্ভবতী এক নারীও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ‘আতঙ্কগ্রস্ত’ হয়ে আছে বলে নুয়ান জানিয়েছেন।

“যে গোষ্ঠী এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সামনে আরও সহিংসতা হবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা সবাই এ ঘটনায় প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে আছে,” বলেন তিনি।

ঘটনার জন্য ‘স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা’ ও ক্যামেরুনের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রধানকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধীদল ‘মুভমেন্ট ফর দ্য রিবার্থ অব ক্যামেরুন’।

বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা আগবর এমবালা ঘটনার জন্য ‘রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী’ দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন।

কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হওয়ায় ক্যামেরুনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারা ইংরেজি ভাষায় কথা বলে, দেশের অন্যান্য অংশ ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ হওয়ায় তারা ফরাসি ভাষা ব্যবহার করে।

২০১৭ সালে নিরাপত্তা বাহিনী ইংরেজি ভাষীদের প্রতিবাদ দমনের পর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর আবির্ভাব হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ওই এলাকায় আমবাজোনিয়া নামে নতুন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া ওই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে ঘোষণা দেন।

তারপর থেকে ওই এলাকায় শুরু হওয়া লড়াইয়ে এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি লোক নিহত ও অন্তত ৭০ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ লড়াইয়ে ক্যামেরুন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য