দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ২য় শিফ্ট শিক্ষা কার্যক্রমের পারিশ্রমিক হ্রাস করার প্রতিবাদে ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ মানববন্ধন পালন করে।

কারিগরি নির্ভর সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং সার্বিক মান-উন্নয়নে বহুমূখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মান সম্মত কারিগরি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন এবং এসডিজি এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্ত্বে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠিকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে বহুমূখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকার ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষার হার ২০২০ সালে ২০% ২০৩০ সালে ৩০% এবং ২০৪১ সালে ৫০% এ উন্নতি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষার হার মাত্র ১৪%। এতো অল্প সময়ে শুধুমাত্র এক শিফট শিক্ষা কার্যক্রম দ্বারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যেমন অসম্ভবন তেমনি নতুন করে জনবল নিয়োগ করাও সরকারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ বিধায় বিদ্যমান কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও কর্মরত জনবল দ্বারা সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় শিফট কার্যক্রম চালু করেছেন।

সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অমানবিক পরিশ্রম করে শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ দ্বিতীয় শিফট এর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেকনোলজি গ্রুপ এবং ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর জন্য কোন জনবল বৃদ্ধি করা বা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। জনবলের তীব্র সংকট সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সহিত পালন করে যাচ্ছেন।

মানব বন্ধনে বলেন- আমরা আর দ্বিতীয় শিফট চাইনা। কারণ ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুসারে আমরা ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মূল বেতনের ৫০% হারে ভাতা পেয়েছি। কিন্তু ২০১৮ সালের জুলাই মাসে আদেশ জারির মাধ্যমে তা ২০০৯ সালের মূল বেতনের ৫০% এ নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় শিফট এ নতুন নতুন টেকনোলজি চালু, গ্রুপ সংখ্যা বৃদ্ধি, দুই শিফট এর নামে চার শিফট এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে এবং শিক্ষক-কর্মচারী স্বল্পতার জন্য নিয়মিত শিফট পরিচালনা করতে অসুবিধা হচ্ছে। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় শিফট এর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আলাদা সেটআপ (শিক্ষক্ষ-কর্মচারী, অবকাঠামো এবং উপকরনাদী) নিয়োগ করে পরিচালনা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।

মানব বন্ধনে নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপপিস’র সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খলিল, বাপশিপ’র সভাপতি মোঃ তোজাম্মেল হোসেন, বাকাশিঅকস’র সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক হোসেন সহ বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি (বাপশিস), বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ (বাপশিপ), বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি (বাকাশিঅকস) দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, দিনাজপুর শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য