মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের উত্তরা আবাসন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মামলা করার প্রেক্ষিতে পাল্টা মিথ্যে মামলায় ১৮ জন অধিবাসীর বিপক্ষে একতরফা চার্জশীট দেওয়ার অভিযোগে আসামীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারী রবিবার দুপুরে উত্তরা আবাসন প্রকল্প এলাকায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সাবিনা বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৃত. ইসাহাকের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার ও তার দুই ছেলে হৃদয় ও রহিমের মিথ্যে মামলা ও হামলার শিকার মোঃ মুন্না, আমিনুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, মোছাঃ পারভীন সহ এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় বিগত ২০১৭ সালে আনোয়ার ও তার দুই ছেলে হৃদয় ও রহিম সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হামলা করে আতিয়ার রহমানের ছেলে রিমনকে ধারালো খুর দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় রিমনের মা রিতা বেগম মামলা করেন। পিটিশন মামলা নং-৫৩/১৭ বিচারাধীন রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন ১১ জনকে আসামী করে পাল্টা মামলা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে ডিসেম্বরে উপরোক্তরা মোঃ মুন্নার ছেলে কালামের ঘরে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ এসে হৃদয় ও রহিমকে আটক করে। এ ঘটনাতেও মামলা হয়, মামলা নং-২। এর প্রেক্ষিতে আনোয়ারের ভাই শহরের সুরকী মহল্লার জাহিদ হোসেন আবারও এসে আগুন দেওয়ার সময় হাতে নাতে আটক হয়। কিন্তু গভীর রাতে জাহিদকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে আবাসনবাসী সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ক অবরোধ করে।

পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আস্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়। কিন্তু তারপরও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ইউএনও কে স্বারকলিপি দেওয়া হয়। এতে জাহিদ আবারও আবাসনে এসে হুমকি দিয়ে যায়। যার ফলে জাহিদের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়। জিডি নং ১৫৯৭। পরে কাউন্সিলর, মহিলা কাউন্সিলর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) ও পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মামলা থেকে বাঁচতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে আনোয়ারের স্ত্রী সাবিনা বেগম আদালতে আবাসনের ১৮ জনকে আসামী করে মিথ্যে ঘরে অগ্নি সংযোগ, লূটপাট ও শ্লীলতাহানীর মামলা দায়ের করে এবং মামলার তদন্তভার সিআইডি তে ন্যাস্ত করার আবেদন করে। কারণ তদন্তভার সৈয়দপুর থানায় আসলে থানা এ ব্যাপারে অবগত থাকায় প্রতিবেদন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যাবে। আদালতের নির্দেশে সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার রমজান হোসেন আসামীদের কাছে কোন প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ না করেই মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার ও তার ছেলে, ভাইসহ সহযোগিদের পক্ষে শতভাগ প্রতিবেদন দিয়েছেন।

আবাসনবাসী এই চার্জশীটের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং মামলাটি পূণঃ তদন্তের দাবি জানান। তাদের দাবি সঠিক তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে। সঠিক তদন্ত না হলে নিরাপরাধ ব্যক্তিরা ফেঁসে যাবে এবং অপরাধীরা বেঁচে যাবে। এতে আবাসনে মাদক ব্যবসা সহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবে। যা আবাসনবাসী কোনভাবেই চায়না। বরং তারা বাঙ্গালী-অবাঙ্গালীরা মিলে মিশে মাদকমুক্ত পরিবেশে শান্তি শৃঙ্খলার সাথে বসবাস করতে চায়। তাই এ ব্যাপারে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য