চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ইতোমধ্যে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেখানে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬৬৫ জনের। আক্রান্ত হয়েছে অর্ধলাখের বেশি। এরইমধ্যে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটিতে ওই ভাইরাসের উপসর্গ গোপন করাকে ফৌজদারি অরপাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওই নির্দেশনা জারি করা হয়।

আদালতের নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের বার্তাসংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, দেশটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গোপন করলে কিংবা ভুল তথ্য দিলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। এমনকি ভ্রমণের তথ্য গোপন করলেও তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ ভাইরাসটি ছড়াতে সহযোগিতা করলে তাকে মানুষের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে নির্দেশনা অমান্যকারীদের ১০ বছরের জেল ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে গত শনিবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনও একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে জ্বর, কাশি অথবা অন্য কোন রোগে আক্রান্তদের সড়ক, রেল কিংবা বিমানে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নববর্ষের দীর্ঘ ছুটি শেষে শহরগুলোতে ফিরতে শুরু করেছে চীনের মানুষ। কেউ নতুন করে ফিরে গেলে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ৷ সেক্ষেত্রে বাড়িতে স্বেচ্ছায় বা পর্যবেক্ষণে এই সুরক্ষা নিতে হবে তাদের।

নির্দেশ অমান্যকারীদের আইনের মুখোমুখি এবং শাস্তি পেতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে নির্দেশনাটি কীভাবে কার্যকর হবে বা শাস্তির মাত্রা কেমন হবে সে বিষয়ে ওই নির্দেশনায় কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। এতে কেবল চীনে মারা গেছে ১৬৬৫ জন আর আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য