কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ‘আচার’ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১৫ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৮জনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, শনিবার সকালে উপজেলার চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (১ম-৮ম শ্রেণি) শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার সকালে প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষে শ্রেণিকক্ষে যায়। এর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম। তার পেট ব্যথা ও বুক জ্বালা করতে থাকে। পাশাপাশি বমির উদ্রেক হয়। এতে সে বেঞ্চে শুয়ে কাতরাতে থাকে। বিষয়টি শ্রেণি শিক্ষক শরিফা রানী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদসহ অন্যান্য শিক্ষকদের জানালে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দ্রুত নাগেশ্বরী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিমু, সায়মা, অষ্টম শ্রেণির লুবনা, মাসুম বিল্লাহ, ববিতা, বিলকিছ, জোবায়ের, ৫ম শ্রেণির হানিফ, ৪র্থ শ্রেণির ফাহাদ, ৬ষ্ঠ শ্রেণির রুবাইয়া, দ্বিতীয় শ্রেণির আঁখিসহ একে একে আরও ১৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরে। পরে তাদেরকেও দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের কয়েকজন জানায়, তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে আচার বিক্রেতার কাছ থেকে আচার ও ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছে।

আঞ্জুয়ারা বেগম, আইয়ুব আলী, হাসেম আলীসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাগেশ্বরী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাইফ জামান বলেন, লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে এটি ম্যাস হিস্ট্রিয়া অথবা ফুড পয়জনিং থেকেও হতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এদের মধ্যে ৭ম শ্রেণির মীম, সায়মা, ফারজানা, শিমু, ৬ষ্ঠ শ্রেণির আইভি, লীমা, ৮ম শ্রেণির লুবনা, বিলকিছকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার অধিকারী জানান, প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে মনে হয় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে আচার বিক্রেতার কাছ থেকে আচার ও ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছে। খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণেই হয়তো এ ঘটনা ঘটেছে।

নাগেশ্বরী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবীর জানান, ঘটনার পরেই ওই স্কুলের সামনে আচার ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা ইমান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য