নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযান চলাকালে রেলওয়ে ভূমির উপর গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রেলওয়ের এ উচ্ছেদ অভিযান চলে। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেলওয়ের স্টেট কর্মকর্তা পাকশী ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুজ্জামান।

এ সময় সাথে ছিলেন বেশ কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট। উচ্ছেদ চলাকালে সহযোগিতা করেন র‌্যাব, পুলিশ ও রেলওয়ের বিশেষ বাহিনী।

শহরের হাওয়ালদারপাড়া, চাউল মার্কেট, সবজি বাজার, সুপারি বাজার, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের বিভিন্ন স্থান, সাহেব পাড়া, নতুন বাবুপাড়াসহ আরও অনেক স্থানে অভিযান চলে।

উল্লেখ্য ১৮৭০ সালে দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে। ওই কারখানাকে ঘিরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুরে বিপুল সম্পত্তি ক্রয় করেন। ক্রমান্বয়ে রেলওয়ের ওই পরিত্যক্ত জমিগুলো চলে যায় দখলদারের হাতে।

দখলদাররা ওই জমির উপর গড়ে তোলে বিশালাকৃতির অট্টালিকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, গোডাউন ঘর, কমিউনিটি সেন্টারসহ আরও বিভিন্ন স্থাপনা। কেউ কেউ লিজ নিয়ে আবার কেউ কেউ লিজ ছাড়াই রেলওয়ের ওই জায়গা দখলে রাখে। বেশ কয়েক বার রেলওয়ের উচ্ছেদ নোটিশ হয়। সময় দেয়া হয় বেধে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা বার বার থমকে যায়।

এবার উচ্ছেদ শুরু হলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে উচ্ছেদ অভিযান দেখে। এ সময় রেলওয়ে জায়গার উপর ভাসমান দোকান উচ্ছেদ, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তালাবদ্ধ, জরিমানা এবং বেশ কয়েকটি কোয়ার্টার থেকে দখলদারকে বের করে দেয়া হয়।

উচ্ছেদ চলাকালে দখলদারদেরকে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয় তার নিজ মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য। এ ব্যাপারে কথা হয় রেলওয়ে সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলামের সাথে।

তিনি বলেন সরকারি কাজে কেউ যদি বাধার সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে সৈয়দপুরে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছে কয়েক লাখ মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য