যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভরাডু্বির রাতে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেট পার্টির প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

মঙ্গলবার ৭৮ বছর বয়সী ‘বামপন্থি’ এ রাজনীতিক ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের সাবেক মেয়র পিট বুটিগিগকে সামান্য ব্যবধানে হারিয়ে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেলেন, জানিয়েছে বিবিসি

‘এ রাত থেকেই ট্রাম্পের শেষের শুরু’, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের এমনটাই বলেছেন স্যান্ডার্স।

এই প্রাইমারিতে স্যান্ডার্স ও বুটিগিগের পেছনে থেকে তৃতীয় হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মিনেসোটার সিনেটর অ্যামি ক্লবুচার।

ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন দৌড় শেষ করেছেন বাইডেনের আগে চতুর্থ হয়ে।

আইওয়া ককাসের পর এদিন নিউ হ্যাম্পশায়ারেও সামান্য ভোট পেয়ে প্রযুক্তি উদ্যেক্তা অ্যান্ড্রু ইয়াং ও কলোরাডোর সিনেটর মাইকেল বেনেট তাদের প্রার্থীতার দৌড়ে ইতি টেনেছেন।

ডেমোক্রেট মনোনয়ন লড়াইয়ের প্রথম সরাসরি ভোট বা প্রাইমারিতে মঙ্গলবার রাতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটার তাদের রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশই পড়েছে স্যান্ডার্সের বাক্সে।

৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, দ্বিতীয় হওয়া বুটিগিগ ভারমন্টের সিনেটরের চেয়ে মাত্র সাড়ে চার হাজার ভোট কম পেয়েছেন।

ম্যানচেস্টারের সমাবেশে দেওয়া বিজয়ী ভাষণে স্যান্ডার্স তার এ ‘অসাধারণ জয়ের’ জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন।

“আজকের এ জয় থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্পের শেষের শুরু হল,” বলেছেন তিনি। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে হারাতে ‘আগে কখনোই দেখা যায়নি এমন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে বিরাট রাজনৈতিক আন্দোলন’ গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ডেমোক্রেট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পরবর্তী পরীক্ষা নেভাদায়। ২২ ফেব্রুয়ারি এখানের ককাসের পর মাসের শেষ দিকে সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রাইমারি হবে।

মঙ্গলবার জয়ী হলেও স্যান্ডার্স নিউ হ্যাম্পশায়ারের ২৪ প্রতিনিধির ৯ জনকে নিজের পক্ষে আনতে পেরেছেন। সামান্য কম ভোট পেয়েও প্রতিনিধি সংখ্যা একই থেকেছে বুটিগিগেরও। আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ার মিলিয়ে প্রতিনিধি সংখ্যার দিক দিয়ে সাউথ বেন্ডের এ মেয়রই এখন শীর্ষ স্থানে রয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপগুলোতে স্যান্ডার্সের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাইডেনের ফলাফল সামনের প্রাইমারি ও ককাসগুলোতে তার জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। আইওয়াতে বাজে ফল করার পর বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে তার সমর্থন ২০ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছিল

গ্রামপ্রধান ও শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এ দুই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধির সংখ্যা খুবই কম। প্রার্থীদের অবস্থান বোঝা যাবে মূলত মার্চের সুপার টুইসডের ফলে। যে কারণে খারাপ ফল করার পরও মনোনয়ন দৌড় থেকে এখনই সরছেন না বলে জানিয়েছেন ওয়ারেন ও বাইডেন।

“অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আমাদের প্রচার দাঁড়িয়েছে, আমরা মাত্রই শুরু করলাম,” বলেছেন ৭০ বছর বয়সী ওয়ারেন।

“সবকিছু এখনি শেষ হয়ে যায়নি,” বলেছেন সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনপ্রত্যাশী বাইডেন।

কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে স্যান্ডার্সও ব্যাপক জনপ্রিয়; তুলনায় বুটিগিগ বেশ পেছনেই বলে জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে।

সব প্রাইমারি ও ককাস শেষে জুলাইয়ে উইসকনসিনের মিলওয়াউকিতে ডেমোক্রেট সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষিত হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য