আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে সড়ক সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষোভে ফেঁটে পড়েছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসি।

সরেজমিন নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণসহ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী বাজার এলাকায় উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে একটি সড়ক নির্মান কাজ শুরু করা হয়।

এলাকাবাসির চোঁখকে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে ঠিকাদার বনাম নির্মান কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গোপন যোগসাজসে রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার কাজ করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনি কন্ট্রাকশন।

কোন জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসি ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ পলাশবাড়ী-কাশিয়াবাড়ী সড়কের সাড়ে ৪ কি.মি. দীর্ঘ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয় ৭৩ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানায় গত সোমবার দিনগত রাতে স্থানীয় লোকজন নির্মানকাজ এলাকা থেকে সড়ে পড়ে। এদিকে সুযোগবুঝে ঠিকাদারী সংস্থার জনবল রাতের আঁধারে কোনো রকম দায়সারা ভাবে সম্পূর্ণ অনিয়মের ছত্রছায়ায় অবিরাম নির্মান কাজ অব্যাহত রাখেন।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা নির্মান স্থলে এসে নিম্নমানের কাজ প্রত্যক্ষ করেন।বারংবার সাবধানতা অবলম্বন এবং জবাবদিহিতার সতর্কতা সত্বেও এসবের কোন তোয়াক্কা না করে যাবতীয় নির্মান সামগ্রী ছাড়াও নিম্নমানের বিটুমিন মিশানো মসলা দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়।

রাত ভোর হতে না হতেই যেনতেন কার্পেটিং গুলো নিমিষেই উঠে যাচ্ছিল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনবলের নিকট এমন বেহাল কাজের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা তাৎক্ষণিক জানান কার্পেটিংয়ের মালামাল সমূহ অন্যত্র থেকে বহন করে কর্মস্থলে নিয়ে আসার প্রাক্কালে কাকতালীয় সড়ক দূর্ঘটনার সম্মুখিনে পড়ায় যথাস্থানে পৌছঁতে বেশ বিলম্ব হয়।

এ কারণে কার্পেটিংয়ের জন্য পূর্ব মিশ্রিত মালামাল সমূহ জমে যায়। ফলে নির্দিষ্ট কাজ করতে অপ্রত্যাশিত রাতগভীর হয়ে যায়। তবে কাজ চলমানকালীন উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলেন। কাজের মান খারাপ হলে তা অবশ্যই পূনরায় সম্পন্ন করে নেয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী তাহাজ্জদ হোসেন জানান, কাজের সময় প্রকৌশলী কার্যালয়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।কিন্তু কাজের মান খারাপ হয়েছে বলে আমি তা স্থানীয় লোকমুখে শুনেছি। এ কারণে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার সরেজমিন গিয়ে বাস্তবতা নিরুপনের পর যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।তাছাড়া সঠিকভাবে সড়ক সংস্কারের কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট বুঝিয়ে নিয়েই তাদের ছাড়পত্র দেয়া হবে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নির্মান কাজ স্থগিত রয়েছে বলে জানা যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য