দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে এক এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীকে অপহরণের পর ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় ৪ যুবককে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। মুক্তিপণ দাবি করলে অপহৃত ওই শিক্ষার্থীর মামা ৯৯৯ কল করে পুলিশের সাহায্য চাইলে দিনাজপুরের অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। অপহরণের ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করতে পারলেও ৩জন অপহরণকারী পালিয়ে গেছে বলে জানা যায়।

আটককৃতরা হলেন, মো. রনি ইসলাম (২১), মো. মনিরুল ইসলাম (২২), মো. জিল্লুর মেহিদী (১৯), মো. মামুন হোসেন (১৯)। আটককৃতদের সবার বাড়ি দিনাজপুর সদরের ফকিরপাড়া এলাকায়। পলাতকরা হলেন, মো. তানভীর ইসলাম (২২), মো. জোবায়দুল ইসলাম (২২), মো. মিম ইসলাম (১৯)।

এ বিষয়ে অপহৃত ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীর মামা মো. লুৎফর রহমান বাদি হয়ে গত শনিবার রাতে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় ৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মো. সাকিব আহমেদ (১৭) নামের এক এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী গণিত পরীক্ষা দিয়ে বের হবার পর সদরের রাণীগঞ্জ মোড় এলাকা থেকে শহরের ফকিরপাড়া এলাকার কয়েকজন অপহরণকারী সাকিব আহমেদকে মৃত্যুর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।

জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তোলার সময় স্থানীয় কয়েকজন বাধা দিলে তাদের কিলঘুষি ও মারপিট করে সাকিবকে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে অপহরণকারীরা উপজেলার আত্রাই নদীর পশ্চিমপাড়ে কবরস্থানের পাশে একটি টিনের ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃত সাকিব টাকা দিতে রাজি না হলে তাকে মারপিক করে আহত করে।

অপহৃত শিক্ষার্থীর মামা মো. লুৎফর রহমান জানান, অপহরণকারীদের মোবাইল থেকে আমাকে ফোন করে তারা বলে, তোমার ভাগিনা সাকিব আমাদের নিকট আটক আছে। যদি তোমার ভাগিনাকে বাঁচাতে চাও তাহলে ২ লাখ টাকা নিয়ে বীরগাস্থ কবরস্থানের পাশে চলে এসো। বিষয়টি শোনার পর আমি সরকারি টোল ফ্রি ৯৯৯ কল করে পুলিশের সহায়তা চাই।

পুলিশকে পুরো বিষয়টি বলার পর বীরগাস্থ কবরস্থানের পাশে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ৪ জন অপহরণকারী পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় আমার ভাগিনা সাকিবকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই।

এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ছোবহান বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েই সেখানে ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল ঘেরাও করি। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩জন পালিয়ে গেলেও বাকি ৪জনকে আটক করতে সক্ষম হই। পরে সেখান থেকে অপহরণকারীদের দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করে অপহরণকারীদেরসহ থানায় নিয়ে আসি। বাকি আসামিদের ধরতেও আমাদের কার্যক্রম চলছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য