কিছুক্ষণের জন্য এল সালভাদরের পার্লামেন্ট দখল করে নিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে ও তার সমর্থক একদল সশস্ত্র সৈন্য।

অপরাধী দলগুলোর সহিংসতা দমনের জন্য প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনায় আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতে রোববার এমনটি করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

যুদ্ধ সাজে সজ্জিত সৈন্যরা পার্লামেন্টে প্রবেশ করে তাদের বাহিনীগুলোকে উন্নত উপকরণে সজ্জিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রস্তাবিত ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের একটি ঋণ অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে, খবর বিবিসির।

বুকেলে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার আগমূহুর্তে সৈন্যরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। এ সময় পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্টের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসেছিলেন বুকেলে। পার্লামেন্টের ওই বিশেষ অধিবেশনে তখন অল্প কয়েকজন এমপি উপস্থিত ছিলেন।

বুকেলের মন্ত্রীসভা পার্লামেন্টের এই বিশেষ অধিবেশনের ডাক দিয়েছিল।

বুকেলে গত বছরের জুনে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মধ্য আমেরিকার দরিদ্র এই দেশকে অপরাধী দলগুলোর সহিংসতা ও দুর্নীতি মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

খুনের হারে বিশ্বের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে এল সালভাদর অন্যতম। অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনাই এল সালভাদরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারিত করে রাখা অপরাধী দলগুলোর কাজ।

এইসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীগুলোর উপকরণ উন্নত করতে ওই ঋণ ব্যবহার করতে চান ৩৮ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট। পুলিশের যানবাহন, পোশাক, নজরদারি সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার কিনতে ওই অর্থ খরচ করতে চান তিনি।

কিন্তু রোববার অধিকাংশ এমপি-ই প্রস্তাবিত বিল নিয়ে বিতর্কে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে পার্লামেন্টে কোরাম সংকট দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট বুকেলে তার সমর্থকদের পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করার নির্দেশ দেন বলে বিবিসির মধ্যে আমেরিকা সংবাদাতা উয়িল গ্রান্ট জানিয়েছেন।

প্রায় ৫০ হাজার সরকার সমর্থক পার্লামেন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। এমপিরা প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরু না করলে বুকেলে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবার রাস্তায় ফেরার নির্দেশ দেন।

“নির্লজ্জ এইসব লোকেরা যদি আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের ওই পরিকল্পনা অনুমোদন না করে, আগামী রোববার আবারো আপনাদের এইখানে ডেকে পাঠাবো আমরা,” পার্লামেন্টের বাইরে এক জ্বালাময়ী ভাষণে বলেন বুকেলে, এরপর পার্লামেন্ট ভবন ছেড়ে যান তিনি।

পার্লামেন্টের স্পিকার মারিও পোন্সে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব নিয়ে সোমবার আইনপ্রণেতারা আলোচনায় বসবেন।

স্পিকারের এই অবস্থান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য ইঙ্গিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য