আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট দিয়ে গড়া দূর্যোগ সহনীয় সেই বাড়িটি অবশেষে ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে নির্মান শুরু করা হয়েছে।

রবিবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) ভেঙ্গে ফেলা বাড়ি নতুন করে নির্মান শুরু করেন প্রকল্প চেয়ারম্যান।

এর আগে নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মান করার অভিযোগে নির্মান কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) উত্তম কুমার।

জানা গেছে, হতদরিদ্র ও ভুমিহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মানে প্রতি বাড়ির বিপরীতে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। এই অর্থে দুই কক্ষ বিশিষ্ট শোবার ঘর, একটি রান্নার ঘর ও কড়িডোরসহ বার্থরুম নির্মাণ করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে এক একজন সুবিধাভোগীর বাড়ি নির্মানে একটি করে প্রকল্প গ্রহন করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন।

চলতি অর্থ বছরে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার জন্য ৩৩০টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মানে বরাদ্ধ দেয় সরকার। যার মধ্যে কোন উপজেলায় কাজের অগ্রগতি শতকরা ৭০ ভাগ হলেও কোথাও সবেমাত্র শুরু করা হয়েছে বলে জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন শাখা সুত্রে জানা গেছে।

চলতি অর্থ বছরে সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আমবাড়ি গ্রামের দছির উদ্দিনের ছেলে ভুমিহীন শামছুল হকের নামে একটি দূর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মান প্রকল্পে বরাদ্ধ দেয় সরকার। ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সালমকে কাগজ কলমে প্রকল্পটির চেয়ারম্যান দেখানো হলেও বাস্তবায়ন করছেন হারাটি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক। সেই বাড়ি নির্মানে নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে কাজ করায় সুবিধাভোগী ও স্থানীয়রা সদর ইউএনওকে অভিযোগ করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে সাম্প্রতিক সময় ওই বাড়ির নির্মান কাজ পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের দায়ে ওই বাড়ির নির্মান কাজ বন্ধ করেন ইউএনও। সেই সাথে পুরো বাড়ি ভেঙ্গে পুনরায় নতুন ভাবে নির্মানের নির্দেশ দেন তিনি।

এ নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারী একটি সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অবশেষে সেই বাড়িটি শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারী) সমুলে ভেঙ্গে ফেলেন প্রকল্প চেয়ারম্যান। এরপর রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে পুননির্মান শুরু করা হয়।

বাড়ির মালিক সুবিধাভোগী শামছুল হক জানান, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে ইউএনও এসে কাজ বন্ধ করে দেন এবং ভেঙ্গে নতুন করে নির্মানের নির্দেশ দেন। তাই ভেঙ্গে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে।

হারাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, ইউএনও’র নির্দেশে বাড়িটি ভেঙ্গে পুনরায় নির্মান করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিম্নমানের সামগ্রীতে বাড়িটি নির্মান করায় তা ভেঙ্গে নতুন করার করা নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যা ইতোমধ্যে ভেঙ্গে নতুন করে নির্মান শুরু করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য