নানান কারণে নখ ভেঙে বা ফেটে যেতে পারে। সঠিক পরিচর্যা করে তা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নখ ভালো রাখতে ভারতের জ্যেষ্ঠ কসমেটিক সার্জন ডা. মোহন থমাসের দেওয়া কিছু পরামর্শ এখানে দেওয়া হল।

হাত পরিষ্কার রাখা: হাত এবং ত্বককে ময়লা থেকে পরিষ্কার রাখা জরুরি। নখ থেকে নেইল পলিশ তুলতে অ্যাসিটোন মুক্ত নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহার করতে হবে। চাইলে টুথব্রাশে সাবান লাগিয়ে তা দিয়ে নখ স্ক্রাব করতে পারেন। এটা ময়লা দূর করে এবং দামি ও রাসায়নিক উপাদান ছাড়াই ত্বকের মৃত কোষ কষ্ট ছাড়াই দূর করতে সহায়তা করে।

নখ কাটা: দুই সপ্তাহে অন্তত একবার নখ কাটা উচিত। তবে নখ কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন ‘কিউটিকল’ কেটে না যায়। কারণ এটা নখকে আটকে রাখে এবং ভেঙে যাওয়া ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাই কিউটিকেলের যত্ন নিতে সপ্তাহে একবার গোসলের পরে কাঠের দণ্ড দিয়ে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। পরে ‘কিউটিকল তেল’ বা লোশন ব্যবহার করুন।

উন্নত নেইল কিট ব্যবহার: প্রতিবার ব্যবহারের পরে নখে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি সংক্রমণ মুক্ত করতে রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

নখকে সুরক্ষিত ও আর্দ্র রাখা: ‘নেইল পেইন্ট’ করা হলে তার আগে অবশ্যই বেইজ কোট ব্যবহার করতে হবে। বেইজ কোট নখের পেইন্টকে সুরক্ষিত। একই সঙ্গে নখকে পলিশের থেকে ভালো রাখে। নেইল আর্ট করার পরে তা সুরক্ষিত রাখতে ‘টপ কোট’ নেইল পলিশ ব্যবহার করুন, এতে নখের শুষ্কতাও দূর হবে। রাতে কিউটিকলের ওপর কাঠবাদামের তেল ব্যবহার করা ভালো। এতে তা রাতে নখকে আর্দ্র রাখবে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে।

উন্নত নেইল পেইন্ট ব্যবহার করা: নখে কেবল নেইল পলিশ ব্যবহার করলেই চলবে না তা যেন উন্নত মানের হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক নেইল পেইন্টে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে। যার ফলে নখের শুষ্কতা, ভঙ্গুরভাব এবং ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়।

নখকে শ্বাস নিতে দিন: নখ সজ্জার কার্যক্রমের মাঝে বিরতি রাখুন। এতে নখ শ্বাস নিতে পারবে। তা না হলে নখ দুর্বল হয়ে আকার নষ্ট হয়ে যাবে।

কাজ করার সময় ‘গ্লাভস’ ব্যবহার: থালা বাসন ধোয়া, বাগান করা বা অন্য যে কোনো কাজ যাতে হাতে ময়লা না লাগে এমন কাজ করার সময় রবার, ভিনাইল অথবা প্লাস্টিকের হাত মোজা ব্যবহার করুন। হাতে সরাসরি ‘ডিশওয়াশার’ লাগলে তা নখের ক্ষতি করতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া: নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন-জাতীয় খাবার নখের জন্য ভালো। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- শুঁটি, মাছ ও বাদাম খাবারে যোগ করুন। ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার নখের ভঙ্গুরতা কমায়। ক্যালসিয়াম নখ শক্ত করে। ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ নখের শুষ্কতা ও মলিনভাব দূর করে। এছাড়াও আর্দ্রতা রক্ষা করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য