চীন থেকে উদ্ভুত নভেল করোনাভাইরাসের (২০১৯-এনসিওভি) বিশ্বজুড়ে বিস্তার ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ (৬৭৫ মিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস যাতে আর ছড়াতে না পারে এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে, এমন দেশগুলোকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।

জরুরি এই তহবিল প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়াসাস বলেন, “সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হল- এমন অনেক দেশ আছে যাদের এই ভাইরাসে সংক্রমিতদের শনাক্ত করা, এমনকি কোথা থেকে এর উদ্ভব হতে পারে, তা শনাক্ত করার মতো পদ্ধতি নেই।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। নতুন করে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে আরও ২ হাজার ৯৮৭ জনের। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চীনের সব প্রদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ। হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে তারা।

এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই ৭০ জন। ২ সপ্তাহ ধরে এই প্রদেশ পুরো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

চীনের বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। একজন ফিলিপাইন ও একজন হংকংয়ের। তারা প্রত্যেকেই চীনের উহান প্রদেশ থেকে এসেছিল। উহানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অবহেলা ও ঘাটতির কথা স্বীকার করে নেয় চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে উহান শহরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেখানে অতিরিক্ত চিকিৎসাকর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া কর্মকর্তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

তবে মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, চীনের নেওয়া অভাবনীয় উদ্যোগে সংক্রমণ বন্ধের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাস মোকাবিলায় আরও বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য