চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে একমাত্র চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি বাজারে অটোভ্যান বা রিকশার মতো ভাড়ায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ করেছেন বেকার শতাধিক যুবক। গত ১০ বছর ধরে বিন্যাকুড়ী বাজার থেকে যাত্রীর ভাড়া ঠিক করার পর মোটরসাইকেল চালক যাত্রীকে পিছনে বসিয়ে গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীরা গন্তব্যস্থানে পৌছার কারনে এই বাহনকে বেশী পছন্দ করে থাকে।

সরেজমিন উপজেলার বিন্যাকুড়ি বাজারে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার পার্শ্বে ভাড়ার জন্য মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড করে করে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে শতাধিক মোটরসাইকেল চালক। মোটরসাইকেল চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শিখে যখন কোনো চাকরি পাচ্ছি না তখন মোটরসাইকেল শো-রুমে কিছু টাকা জমা দিয়ে মোটরসাইকেল ক্রয় করি। সেই মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করছি আর নিজের পরিবারও চালাচ্ছি।

অপর চালক মাসুদ রানা বলেন, চাকরি পাওয়া খুবই সমস্যা তাই একটা মোটরসাইকেল ক্রয় করে সেই মোটরসাইকেল ভাড়ায় যাত্রী বহন করে মোটরসাইকেলের কিস্তির টাকা পরিশোধ করে নিজের কর্মস্থানের সৃষ্টি করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই আছি। তারা আরও জানান, সময় ও দূরত্ব জানার পর যাত্রীর ভাড়া ঠিক করা হয়।

সাধারণত এই বিন্যাকুড়ির বাজারের আশেপাশের লোকজনরাই এই মোটরসাইকেলের যাত্রী হয়। কোনো অচেনা লোকদেরকে তেমন ভাড়ায় দেয়া হয় না। বিন্যাকুড়ি বাজারের কয়েক কিলোমিটারের গ্রামের লোকজনই এই মোটরসাইকেলের যাত্রী হয়। তবে নারীরাও এখন মোটর সাইকেলের যাত্রী হয়। মোটরসাইকেল যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, স্বল্প সময়ের অল্প ভাড়া দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই মোটরসাইকেল চালকরা আমাদেরকে গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয়।

মোটরসাইকেল ভাড়ায় পাওয়ায় নিজের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আবার নিজ বাড়ি ফিরে আসতে পেরে অনেক খুশি থাকে। অপর যাত্রী রমজান আলী বলেন, এই এলাকার রাস্তা-ঘাট সরু হলেও মোটরসাইকেল চালকের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারছি।

অনেক সময় রাতে জরুরী রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও মোটরসাইকেল চালকদের ফোন দিলেই চলে আসে আমরাও রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি আর আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ৪নং ইসবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হায়দার লিটন বলেন, ইসবপুর ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি বাজারে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে করে যাত্রী বহন করে শতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় শতাধিক পরিবার আজ সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন। প্রতিদিন একজন মোটরসাইকেল চালক প্রায় ১ হাজার টাকা আয় করে তাদের ছেলে মেয়েদেরকে লেখাপড়া করাতে পারছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য