সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ি দখল করে নিয়েছে উপজেলা যুবলীগের সা: সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুট্টু ও তার ভাই ফিরোজ কবির। অসহায় পরিবারের জায়গা দখল করে সেখানে টাঙ্গানো হয়েছে কুলি শ্রমিক লীগ ও পৌর যুবলীগের দলীয় কার্য্যালয়ের সাইন বোর্ড।

মঙ্গলবার সকালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন,তার পৈত্রিক নিবাস বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার চন্দনবাইশা ইউনিয়নে। ১৯৮৭ সালে পৈত্রিক ভিটেমাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর স্ব-পরিবারে ঘোড়াঘাটের ওসমানপুর বাজারের সামান্য এক শতাংশ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বসবাস করে আসছেন।

তিনি বলেন, এরমধ্যে ২০০৭ সালে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ওসমানপুর বাজারের রাস্তা সম্প্রসারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় আমার বাড়িটিও ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো তবে অসচ্ছল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে তারা তখন বাড়িটি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করেননি এবং এমর্মে নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমানবাজারের হাট চান্দিনা রেজিষ্টারে একটি প্রতিবেনন লিখে রাখেন তারপর হতে পৌরকর পরিশোধের মাধ্যমে ওই জায়গায় তারা বসবাস করে আসছেন। গত ২৯/০৫/২০১৯ইং তারিখে ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের সা:সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুট্টু এবং তার ছোট ভাই ফিরোজ কবিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা জোর জোবরদস্তি বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখল করে নিয়ে দলীয় কার্য্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়।

এরপর বিভিন্ন স্থানে আবেদন নিবেদন করে জায়গার বাড়িটির বরাদ্ধের বিষয়টিতে শেষ পর্যন্ত ঘোড়াঘাট থানা অফিসার ইন্চার্জ জেলা প্রশাসকের ডিসিআরে আবেদন করার পরামর্শ দেন তখন উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা বরাবব ডিসিআর এর আবেদন জমা দিলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এাকাংশের অনুমোদন দিলেও অপর অংশে পৌর যুবলীগের সাইনবোর্ড থাকার কারনে বরাদ্ধ দেয়ায় অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এক অংশের বরাদ্ধ পাওয়ার পর বাকি অংশের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব)র সাথে যোগাযোগ করলে একই কারনে তিনিও বরাদ্ধ দিতে অপরাগত প্রকাশ করে বলেন জমিতে জমিতো আমাদের দখলে নেই!

তিনি বলেন,ওসমানপুর বাজারে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাকি দিলেও একজন ভুমিহীন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার (এক শত্ংশ) সামান্যু খানি জায়গার সর্ম্পূন্ন বরাদ্ধ দিতে প্রশাসনের গড়িমসিতে হতাশ হয়ে পড়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে, অসহায় পরিবারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য প্রার্থনা করে জমিদখলকারীদের কঠোর শাস্তিসহ বাকি অংশ বরাদ্ধ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়তা প্রত্যাশা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুত্র রায়হানুল কবির এবং পুত্র বধু আয়শা সিদ্দিকা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য