প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনের ভুলত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছ থেকে সোমবার এ বিরল স্বীকারোক্তি এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কমিটি চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি সাধনে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দেশজুড়ে থাকা অবৈধ বণ্যপ্রাণী কেনাবেচার বাজারে সাঁড়াশি অভিযান চালাতেও নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা নভেল করোনাভাইরাসটি হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের একটি বণ্যপ্রাণী কেনাবেচার বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিউমোনিয়া সদৃশ নতুন এ ভাইরাস ৪২৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজারের বেশি।

“ভুলত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার পাল্টায় আমাদের অবশ্যই জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতার উন্নতি ঘটানো প্রয়োজন। বাজারগুলোতে নজরদারি, অবৈধ বণ্যপ্রাণী কেনাবেচা ও সংশ্লিষ্ট বাজারগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে,” প্রতিবেদনে বলেছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংক্রমণ মোকাবেলায় চীন নানান পদক্ষেপ নিলেও প্রথমদিকে ভাইরাসটি নিয়ে দেশটির অবহেলাও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতাকে কর্মকর্তারা তেমন গুরুত্ব দেননি, এমনকী কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা এ ধরনের খবর চেপে গেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বছরের শেষদিকে উহানের এক চিকিৎসক তার সহকর্মীদের ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব নিয়ে সতর্ক করলে উল্টো কর্তৃপক্ষ তারই মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করে।

সপ্তাহ কয়েক চেপে গেলেও জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে চীনা সরকার ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকে। মধ্যাঞ্চলীয় যে প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেই হুবেই প্রদেশকে তারা কার্যত দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে; সংক্রমণ ঠেকাতে চীন তাদের চান্দ্র নববর্ষের ছুটিও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য