মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ ৩ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হওয়া চলতি এসএসসি পরীক্ষা নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রশ্নপত্র বদলে দিলেও এতে পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট বিলম্ব ঘটে। কিন্তু এর পরিবর্তে শেষে মাত্র ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে এবং তারা এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টায় সৈয়দপুর সরকারী কারিগরি মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১২ নং কক্ষে বাংলা পরীক্ষায় ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুযায়ি প্রনীত প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এই কক্ষে সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ ও হাজারীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা ছিল।

কক্ষে আলো স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রথম দিকে বুঝতে না পারলেও পরে প্রশ্নপত্র ভালোভাবে পড়ে দেখতে পারে যে প্রশ্নগুলো অধিকাংশই তাদের পড়ে আসা সিলেবাস অনুযায়ী নয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি হলে দায়িত্বরত শিক্ষকদের অবগত করলে তারাও দেখেন যে প্রশ্নপত্রগুলো ২০১৮ সালের। তারা তৎক্ষনাৎ বিষয়টি কেন্দ্র সচিব সৈয়দপুর সরকারী কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক কে জানালে প্রায় ৩০ মিনিট পর নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে অনেক ছাত্র-ছাত্রী পূর্বের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী উত্তরপত্রে লিখেছে। ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় তাদের ওই সময়টুকু বৃথা যায়। তারা নতুন প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলেও তাদের শেষের দিকে মাত্র ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্খিত মানের পরীক্ষা দিতে পারেনি। একদিকে তাদের ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে অন্যদিকে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে কম। ফলে তারা জানা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেনি। একারণে তাদের মধ্যে বাংলা প্রথম পত্রের ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। অনেকে আশংকা করছে যে শুধুমাত্র এই বিষয়ের ফলে তাদের সার্বিক পরীক্ষার ফলাফলই খারাপ হতে পারে।

লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ এর পরীক্ষার্থী ইখওয়ান খান ও হাজারীহাট স্কুলের পরীক্ষার্থী মোছাঃ মোহনা জানায়, তাদেরকে ভূল প্রশ্ন দিয়ে ৩০ মিনিট সময় নষ্ট করা হয়েছে। আর অতিরিক্ত সময় বাড়িয়ে না দিয়ে পরীক্ষাটাই নষ্ট করা হয়েছে। শেষে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিয়েও আগেই খাতা কেড়ে নিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

সৈয়দপুর সরকারী কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক জানান, অনাকাঙ্খিতভাবে ভূল হয়ে গেছে। তবে দ্রুতই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার রেহানা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানাচ্ছি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ জানান, সৈয়দপুর সরকারী কারিগরি মহাবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে আমি গিয়েছিলাম। সেসময় কেউ বিষয়টি আমাকে অবগত করেনি। আপনারা জানানোর পর অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব বিষয়টি আমাকে জানান যে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৭ মিনিটের মধ্যে ভূল প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিষয়টি টের পেয়ে তারা তা পরিবর্তন করে দেয়। এজন্য পরীক্ষার্থীদেরকে শেষের দিকে ১২ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য