ভারতের রাজধানী দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশোধিক নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভে ফের গুলি করা হয়েছে।

রোববার রাতের এ হামলায় কেউ আহত হয়নি বলে জামিয়া কোর্ডিনেশন কমিটির বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি।

এ নিয়ে গত চার দিনে দিল্লিতে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভে তৃতীয়বারের মতো গুলি করা হলো।

দুই সন্দেহভাজন, তাদের মধ্যে একজন লাল জ্যাকেট পরিহিত, স্কুটারে করে এসে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫ নং গেইটের বাইরে থেকে গুলি করে, জানিয়েছে জামিয়া কোর্ডিনেশন কমিটি।

দক্ষিণ দিল্লির শাহীন বাগের সড়কে অবস্থান নিয়ে গত দুই মাস ধরে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ করছে প্রতিবাদকারীরা। এখানে তাঁবু গেড়ে রাতদিন অবস্থান করছে তারা।

এর দুই কিলোমিটার দূরে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে গুলি করা হয়, কিছু শিক্ষার্থী তাদের এমনটিই বলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জগদিশ যাদব বলেছেন, “বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, তারা ৫ নং গেইট ও ৭ নং গেইটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করবে।

“পরে বিস্তারিত যেসব তথ্য পাওয়া যাবে, মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, (তারপর) ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সিএএ-বিরোধী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প্রতি রাতেই জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটগুলোর আশপাশে অবস্থান নিয়ে অল্প কিছু লোক বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছে। তাদের মোবাইলে ধারণ করা ও টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কথিত গুলির শব্দ শুনে সড়কবাতির ম্লান আলোর মধ্যে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করছে।

দিল্লি পুলিশের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কুমার গনেশ বলেন, “জামিয়া নগরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। সেখানে কোনো গুলির খোসা পাওয়া যায়নি। কথিত হামলাকারীরা যে বাহন দিয়ে এসেছিল বলা হচ্ছে, তা নিয়েও বিভিন্নরকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।

“কেউ বলছেন স্কুটার দিয়ে এসেছিল, অন্যরা বলছেন একটি ফোর-হুইলার দিয়ে এসেছিল। শিক্ষার্থীসহ বহু লোক থানার সামনে জড়ো হয়েছে। তাদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করবো আমরা।”

শনিবারও শাহিনবাগে পুলিশের ব্যারিকেডের কাছে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের গুলি ছুড়েছিল এক ব্যক্তি, এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। পুলিশ গুলিবর্ষণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর তিন দিন আগে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল কিশোর

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য