হাঁপানি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন সহজ কথা নয়, কিছু মানুষের জন্য রাতটা আরও কষ্টের।

যাদের হাঁপানি রোগ আছে তাদের জন্য কাঁশি, শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণায় নির্ঘুম রাত কাটানো যেন নিত্যদিনের ঘটনা।

রাতে ঘুম না হওয়ার কারণে পরদিন ক্লান্তি লেগেই থাকে। মেজাজ থাকে খিটখিটে। তাই হাঁপানি রোগীদের রাতের যন্ত্রণার সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে রাতে হাঁপানির তীব্রতা বাড়ার কারণগুলো সম্পর্কে জানানো হল।

অভ্যন্তরীন প্রভাবক: কিছু হাঁপানি রোগীর ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং তারা দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক নিয়ে লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক অভ্যন্তরিন প্রভাবকের কারণে এই মারাত্বক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ঘুমানোর ধরন: ঘুমানোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের রাস্তাগুলো সরু হয়ে যায়, ফুসফুসে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ‘সাইনাস’ থেকে বিভিন্ন উপাদানের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই সবকিছু মিলেও রাতে ঘুমের মাঝে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

এয়ার কন্ডিশনার: শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনার থেকে নির্গত ঠাণ্ডা বাতাস প্রাকৃতিক বাতাস থেকে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে যারা রাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমান তারা রাতে শ্বাসকষ্টের কারণে ঘুম থেকে উঠে যেতে পারেন। শীতকালের প্রাকৃতিক ঠাণ্ডা বাতাসেও একই ঘটনা ঘটে।

ধুলিকণা: বাইরের বাতাসের ধুলা তো আছেই, ঘরের ভেতরেও আছে অসংখ্য ধুলার উৎস। যেমন কার্পেট, বিছানার চাদর, তোশক, ম্যাট্রেস, বালিশ ইত্যাদি। এগুলোতে থাকা ‘ডাস্ট মাইটস’ রাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট ডেকে আনতে পারে। বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে তাদের লোম থেকে হাঁপানির শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

ছত্রাক: স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ঘরের দেয়ালে ছোপ, ছোট আকারে ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দেয়। এই ছোপগুলোও ঘরের হাঁপানিতে আক্রান্ত বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টের মাত্রা বাড়াতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।

মোটা দাগে বলা যায়

যারা হাঁপানিতে আক্রান্ত তাদের প্রতিটি পদে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। নিজের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ঠাণ্ডা ঘরে ঘুমানো যাবে না। সবসময় ‘ইনহেলার’ থাকতে হবে হাতের কাছে। সমস্যার তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। আর রাতে ঘুমের মাঝে শ্বাসকষ্ট হওয়াকে অবহেলা করা যাবে না। কারণ তার পরিণতি হতে পারে ভয়ানক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য