জানা বিষয়গুলো বাদে হৃদপিণ্ডের ক্ষতি হওয়ার আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব, ধূমপান, কোমল পানীয় ও মদ্যপান ইত্যাদি সবই হৃদযন্ত্রের জন্য অপকারী তা সবারই জানা। আর চেষ্টা করতে হবে এসব অভ্যাস পরিহার করা। তবে এগুলো ছাড়াও অনেক অজানা সামান্য কিছু অভ্যাস হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে প্রতিনিয়ত।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল সাধারণ কিছু বদভ্যাস যা অপ্রত্যাশিতভাবে হৃদযন্ত্রের ক্ষতির জন্য দায়ী।

লম্বা সময় টেলিভিশন দেখা

হয়ত আপনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। তাই কোনো এক রাতে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে টেলিভিশন দেখা যেতেই পারে। শুধু টেলিভিশন নয়, রাজ জেগে সিনেমা দেখা, মোবাইলে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা সবকিছুই হৃদযন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরুপ। যা বাড়াবে ‘হার্ট অ্যাটাক’ ও ‘স্ট্রোক’ হওয়ার ঝুঁকি। এর কারণ হল নড়াচড়ার অভাবের কারণে শরীরে চর্বি ও শর্করার মাত্রার উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

করণীয়: দিনের লম্বা একটা সময় যারা বসে কাটাতে বাধ্য হন, তাদের উচিত হবে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর চেয়ার ছেড়ে উঠে সামান্য হাঁটাহাঁটি করা। নড়াচড়ার মধ্যে থাকলে চর্বি ও শর্করার মাত্রার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যাবে।

নাক ডাকা

সবারই পরিচিতজনদের তালিকায় কমপক্ষে একজন তো আছেই যিনি ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন। অর্থাৎ নাক ডাকা মানুষের সংখ্যা মোটেও কম নয়। এই সমস্যা আশপাশের মানুষের জন্য যেমন বিরক্তিকর তেমনি ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’রও উপসর্গ এটি। এই ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ আবার ডেকে আনে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া, ‘স্ট্রোক’ এবং ‘অ্যারিদমিয়া’।

করণীয়: নিজের কিংবা পরিচিত কারও নাক ডাকার সমস্যা থাকলে অবশ্যই ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ পরীক্ষা করাতে হবে। রোগাক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে যাতে তা আর মারাত্বক রোগ ডেকে আনতে না পারে।

দাঁতে ফ্লস ব্যবহার না করা

মাড়ির রোগ আর হৃদরোগ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। মাড়ির রোগের পেছনে দায়ী ব্যাক্টেরিয়া রক্তে প্রবেশ করে সংক্রমণ সৃষ্টি করে। যা ছড়িয়ে পড়ে হৃদযন্ত্রেও।

করণীয়: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি ‘ফ্লস’ ব্যবহার করতে হবে। বছরে কমপক্ষে একবার দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ফল ও শাকসবজি না খাওয়া

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যারা প্রতিদিন পাঁচ পদের ফল ও শাকসবজি খান, তাদের হৃদরোগ ও ‘স্ট্রোক’ হওয়ার ঝুঁকি যারা প্রতিদিন তিন পদের ফল ও সবজি খান তাদের তুলনায় কমে যায় প্রায় ২০ শতাংশ। তাই ফল ও শাকসবজি খাওয়া উপর জোর দিতে হবে।

মদ্যপান

অনেক শীতপ্রধান দেশে পরিমিত মদ্যপান হয়ত ভালো। তবে আমাদের দেশের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। মদ্যপান উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কা বাড়ায়। এছাড়াও রক্তে চর্বির মাত্রাও বাড়ে মদ্যপানের কারণে। যার ফলাফল হতে পারে অকেজো হৃদযন্ত্র।

করণী: মদ্যপান পরিহার করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য