ব্রেক্সিটপন্থিদের উল্লাস, উদ্‌যাপন; বিপরীতে বিরোধীদের শঙ্কা আর উদ্বেগের ভেতর ইতিহাস গড়ে সাত দশকের মধ্যে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ল যুক্তরাজ্য।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১ টায় (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৫টায়) আনুষ্ঠানিকভাবে জোট থেকে বেরিয়ে গেল তারা। ছিন্ন হল ৪৭ বছরের বন্ধনের।

বিচ্ছেদের এ ঐতিহাসিক এ মুহুর্তে ব্রেক্সিটপন্থি ও বিরোধীরা যুক্তরাজ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইইউতে থাকতে চাওয়া স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে হয়েছে মোমবাতি প্রজ্বলন; লন্ডনের পার্লামেন্ট চত্বরে নেচে গেয়ে উল্লাস করেছে বিচ্ছেদের সমর্থকরা।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে হয়েছে ব্রেক্সিটবিরোধী বিক্ষোভ। তিন বছরেরও বেশি সময় আগের গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় দেওয়া ওয়েলশের ফার্স্ট মিনিস্টার বলেছেন, ব্রেক্সিটের পরও ওয়েলশ ইউরোপীয় রাষ্ট্রই থাকবে।

জোটের গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্যের বিদায়ের ক্ষণে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশকে একতাবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রেক্সিট কার্যকরের কিছু সময় আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেছেন, “অনেকের জন্য এটি একটি অবিস্মরণীয় আশার মুহুর্ত; এমন এক মুহুর্ত যা কখনো আসবে না বলেও অনেকে মনে করেছিলেন।

“অনেকে উদ্বিগ্ন, শঙ্কিত। তৃতীয় গোষ্ঠীটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড়, যারা ভাবতে শুরু করেছেন যে রাজনৈতিক এ বিতণ্ডা বোধহয় আর কখনোই শেষ হবে না। আমি সব অনুভূতিই বুঝি। আমাদের সরকারের কাজ হচ্ছে, আমার কাজ হচ্ছে দেশকে একতাবদ্ধ করা এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

ব্রেক্সিট ‘কোনো শেষ নয় বরং নতুন শুরু’ বলেও মন্তব্য করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যজুড়ে বিভিন্ন বার ও ক্লাবে নেচে, গেয়ে ইউরোপের সঙ্গে বিচ্ছেদ উদ্‌যাপন করেছে ব্রেক্সিট পার্টি।

পার্লামেন্ট চত্বরে জড়ো হয়ে হাজারো মানুষ গেয়েছে দেশাত্মবোধক সংগীত। এখানে বক্তব্য দেয়াদের তালিকায় ছিলেন নাইজেল ফারাজের মতো কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা।

“চলুন, আজ রাত এমনভাবে উদ্‌যাপন করি, যা আগে কখনোই হয়নি। আমাদের অসাধারণ জাতির আধুনিক ইতিহাসের এটি শ্রেষ্ঠ মুহুর্ত,” বলেছেন ব্রেক্সিট পার্টির এ নেতা।

এর আগে ইইউপন্থিরা হোয়াইটহলে ব্রেক্সিটবিরোধী সমাবেশ করে।

ব্রেক্সিটকে স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক হয় সান্ডারল্যান্ডে। ২০১৬ সালের গণভোটের ফল গণনার সময় এ শহরই প্রথম ব্রেক্সিটের পক্ষে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিল।

বিচ্ছেদের ক্ষণ গণনার সময়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট হয়ে উঠেছিল আলোকজ্জ্বল। মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ছাড়া হয় ৫০ পয়সার বিশেষ মুদ্রা।

ব্রেক্সিটের পরপরই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তর থেকে নামিয়ে ফেলা হয় যুক্তরাজ্যের পতাকা ইউনিয়ন জ্যাক।

ব্রেক্সিটের মুহুর্তে টুইটারে ইইউর একটি পতাকার ছবি পোস্ট করেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজেন।

“স্বাধীন দেশ হিসেবে স্কটল্যান্ড একদিন ইউরোপের হৃদয়ে ফিরবে,” বলেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য