দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কাহারোলে ক্লাস্টার প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফেরো মন ফাঁদ ব্যাবহারে নিরাপদ শাক-সবজি চাষে কৃষকরা দিনদিন লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে যতদিন যাচ্ছে ততই এই প্রযুক্তির ব্যবহারওবৃদ্ধি পাচ্ছে এ উপজেলার কৃষকের কাছে।

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের আখিরা পাড়া গ্রামে সরে জমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অত্র গ্রামের কৃষকরা উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক তত্বাবধানে ও ন্যশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলোজি প্রোগ্রাম ফেস-২ প্রজেক্ট ( এনএটিপি-২) এর সার্বিক সহযোগীতায় উত্তর রামপুর আখিরা পাড়াগ্রামের কৃষকরা চলতি শাক-সবজি মৌসুমে তাদের ৩০ বিঘা জমিতে বেগুন, শিম, কপি, লাউশাক সহ অন্যান্য জাতের শাক-সবজি চাষাবাদ করে কৃষকরা তাদের নিজের পায়ে দাড়িয়েছেন।

ঐ গ্রামের শাক-সবজি চাষি খাজামাইনুদ্দিন, আনারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, মোঃইসমাইল হোসেন সহ আরও অনেক কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগীতায় পদ্ধতি অনুযায়ী কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই বছর জুড়ে আমরা এই গ্রামে শাক-সবজি সহ নানা প্রকার সবজির চাষাবাদ করি এবং এখানে উৎপাদিত শাক-সবজির চাহিদা ওরয়েছে অত্র এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এর ফলে বাজারে অন্য শাক-সবজির চেয়ে আমাদের জমিতে উৎপাদিত সবজির মূল্য সকল মানুষের কাছে অনেক গুনে চাহিদাও রয়েছে বেশি। তাই কীটনাশক প্রয়োগ বাব্যবহার ছাড়া ফসলের মূল্য বেশি পাওয়ায় সবজি চাষিরা দিন দিন লাভবান হচ্ছি।

রামপুর আখিরা পাড়াগ্রামে পূর্বে কোনদিন এই ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সবজি চাষাবাদ হতনা। এই ধরনের সবজির চাহিদা ব্যাপক থাকায় ফসলের খেত থেকেই ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করার জন্য ১৬ মাইল (দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁ) মহাসড়কের পূর্বপার্শ্বে রয়েছে একটি সবজির বাজার। এখান থেকে প্রতিদিনেই শাক-সবজি নিয়ে যাচ্ছে এলাকা ও আশ-পাশের জেলার ক্রেতারা।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবুজাফর মোঃসাদেক এই প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উত্তররামপুর আখিরা পাড়াগ্রামের কৃষকরা শাক-সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা নিজেদের জমিতে আলু, বেগুন, কপি, লাউ, শিমসহ অন্যান্য জাতের সবজি উৎপাদন করছেন।

এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া শাক-সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনুকূলে থাকায় চাষিরা প্রতি মৌসুমেই সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম এবং আমাদের কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী মোঃ নুরুজ্জামান শেখ-এর সার্বিক পরামর্শ-সহযোগীতায় চাষিরা তাদের কাঙ্খিত সবজি উৎপাদন করে নায্য মূল্যে বাজারে বিক্রি করে দিনদিন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য