দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত বুধবার উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের জিয়াতগ্রাম এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সরস্বতী পুঁজা চলাকালীন গান বাজানোকে কেন্দ্র করে,পুঁজা আয়োজকদের সাথে ওই এলাকার মসজিদের মুসুল্লিদের সংর্ঘর্ষ ঘটে।

এ ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও হামলা চালিয়ে গ্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অঙ্গাত ১০/১২জনকে আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় দিন বৃহস্পতিবার রাতেই ৪ জনকে আটক করেছে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ।

আটকৃতরা হলেন, জিয়ত গ্রামের মৃত ইব্রাহিম খলিল এর ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫), আব্দুল মজিদের ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৪), মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার আলী (৪৫) ও মৃত মোজাফ্ফর মন্ডলের ছেলে মানিক মন্ডল (২৩)।

থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে গত বুধবার ২৯জানুয়ারী জিয়ত গ্রামের শ্রী তাপস চন্দ্র রায়ের বাড়ীর উঠানে অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করে সরস্বতী পূজার আয়োজন করেন গ্রামবাসীরা। পূজাকে কেন্দ্র করে পূজা মন্ডপে মাইকসহ সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গান-বাজনা বাজানো হয়।

এরই মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই অস্থায়ী মন্দির থেকে ৩০০ গজ দূরে থাকা ওই গ্রামের মসজিদের মুসুল্লিরা আন্তত ১০ থেকে ১২ জন আকস্মিকভাবে সরস্বতী পূজার ওই মন্দিরে হামলা চালায় এবং মারপিটসহ সাউন্ড সিস্টেমের তার ছেড়াছেড়ি করে,সাউন্ড সিস্টেমের সাথে গান বাজানোর জন্য ব্যবহৃত সেমফোনি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় হামলাকারীরা অস্থায়ী মন্দিরে স্থাপনকৃত সরস্বতী প্রতীমার কাপড় ধরে টানাটানি করে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে প্রতিমার মাথাসহ বাম হাতের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায় বলে,মামলার এযাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার পুঁজা আয়োজক শ্রী লোচন দাস বাদী হয়ে, সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২৫।

পুঁজা আয়োজক সদস্য ও মামলার বাদী শ্রী লোচন দাস বলেন, কোন কারণ ছাড়াই উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানোর কারনে মন্দিরে হামলা চালিয়ে মারপিটসহ মন্দিরে স্থাপনকৃত সরস্বতী প্রতিমার পড়নের কাপড় টানাটানি করে প্রতীমাটিকে মাটিতে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। এতে প্রতিমার মাথা ও বাম হাতের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্যের ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন জানান,হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নামাজের সময় মাইক বাজানোর ফলে মসজিদের মুসল্লীরা মাইক বন্ধ করার কথা বলতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়,তবে মূর্তি ভাঙচুরের কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পূজা মন্ডপে হামলাসহ সরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর ঘটনার পরপরই ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান স্যারের নেতৃত্বে তিনিসহ (ওসি) পুলিশদল রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার । মামলার অন্য আসামীদেরকেও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য