চীনে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, গতকাল নতুন করে আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষের দেহে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনের ৩১টি প্রদেশে আজ (বুধবার) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যা সার্স ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার চেয়েও বেশি। আর চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও ১৭ জায়গায় অন্তত ৭০ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫ জনে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে এরইমধ্যে উহান ও আশপাশের ১৬টি শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে চীনের কর্তৃপক্ষ।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ঘিরে ক্রমেই আতঙ্ক বাড়ছে। হুবেই প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ইয়াং উনইয়ান বলেন, ‘২৬টি গ্রুপে বিভক্ত করে ৩,১০০ চিকিৎসককে হুবেই প্রদেশে আনা হয়েছে। এছাড়া, উহান ও অন্যান্য শহরে ৩০০ জনের আরও চারটি টিম ভাইরাস সংক্রমিতদের চিকিৎসায় কাজ করছে।

এদিকে, চীন থেকে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে। আজ জাপানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীনের উহান শহর থেকে ২০৬ জন জাপানি নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। এছাড়া, আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ চীন থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ারও কাজ শুরু করেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনায় চীন থেকে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধনের কাজ শুরু করেছে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ কী ধরনের উড়োজাহাজ পাঠাবে, তাও জানতে চেয়েছে চীন। তবে চীনের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক বিধিনিষেধের কারণে তাঁদের আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির আগে দেশে ফেরানো যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। এ জন্য দেশের সব কটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলবন্দরে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। এছাড়া, সব জেলা হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করার জন্য সিভিল সার্জনদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

তথ্যঃ পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য