দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক ও কৃষি অনুষদের ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদারকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কৃষি অনুষদীয় পরিবার।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি অনুষদীয় পরিবারের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীগণ অংশ গ্রহণ করেন।

মানব্বন্ধনে বক্তারা বলেন, নৈতিকতার মধ্য থেকে শিক্ষা দান করাই একজন শিক্ষকতার মূল দায়িত্ব। কিন্তু যারা শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাদের শিক্ষক হওয়ার কোন যোগ্যতা নেই। শিক্ষকদের কাছে আমরা নীতি নৈতিকতা শিখবো কিন্তু শিক্ষক হয়ে যদি আর একজন সিনিয়র শিক্ষকের অফিস রুমে গিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে আসে তাহলে আমাদের কাছেও ঐ সকল শিক্ষক কখনো ভালো আচরণ আশা করতে পারে না ।

সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. সৌরভসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) কৃষি অনুষদ ভবনে ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের ল্যাব এ আমি উপস্থিত ছিলাম। সে সময় হঠাৎ বারান্দায় চিৎকার চেচামেচি শুনে ল্যাব থেকে বের হয়ে দেখি প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের গণিত বিভাগের শিক্ষক মামুনুর রশীদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ড. মোমিনুল ইসলাম, সোসিওলজি বিভাগের হাসান জামিল জেনিথ, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কৃষ্ণ চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক শ্রীপতি সিকদার স্যারকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছেন। পরে আমিসহ কয়েকজন মিলে স্যারকে ঊদ্ধার করলে তারা চলে যান।

মানব্বন্ধনে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ খান, শিহাবসহ অন্যরা বলেন, তাদের শুধু এই ঘটনাটিই নয় এর আগেও তারা আমাদের সাবেক রেজিস্ট্রার স্যারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিল। যা তাদের এক ধরনের নিয়মিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মধ্যে পরে। প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম নামধারী এসব শিক্ষকের অনেকেই ইতোপূর্বে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন যে কারণে তাদের এখনো সেই সন্ত্রাসী আচরণ যায়নি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে এ সকল নামধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো।

মানব্বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস, প্রফেসর ড. মো. তারিকুল ইসলাম, কৃষি অনুষদীয় ছাত্র মো. রিয়াদ খান, সাজেদুর রহমান সৈকত, সৌরভ, গোলাম সরোয়ার ফরহাদ, জাহিদুল ইসলাম শিহাব, সরোয়ার জাহান, রাশিদুন্নবী রাশেদসহ আরও অনেকে।

এদিকে এ ব্যাপারে বিচার চেয়ে রেজিষ্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ^াসী শিক্ষক পরিষদ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য