আফগানিস্তানে তাদের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

সোমবার আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশের দেহ ইয়াক জেলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, এই এলাকাটিতে তালেবানের শক্ত অবস্থান আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিমানটিতে কতোজন লোক ছিল বা কেউ নিহত হয়েছে কিনা, তা পরিষ্কার করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিধ্বস্তের সময় বিমানটিতে পাঁচ জনেরও কম লোক ছিল। আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী বিমানটিতে অন্তত দুই জন লোক ছিল।

বিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তা পরিষ্কার করতে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, জানিয়েছে সিএনএন।

বিমানটি শত্রুর গোলাবর্ষণে ‍বিধ্বস্ত হয়েছে এমন ‘কোনো ইঙ্গিত’ পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এক টুইটে কর্নেল সনি লেগেট বলেন, “আজ আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশে একটি মার্কিন বোম্বাডিয়ার ই-১১এ বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্তের কারণ তদন্তনাধীন আছে আর এ সময় শত্রুর গুলির আঘাতে বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে বলে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তখন আমরা জানাবো।

“তালেবানের আরও বিমান বিধ্বস্ত করার দাবি মিথ্যা।”

তালেবানের স্যোশাল মিডিয়া একাউন্টে পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর চিহ্ন থাকা পোড়া একটি বিমানের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে এটিই সেই বিধ্বস্ত বিমান।

ভিডিও এবং ছবি থেকে বিমানটি বোমারু ই-১১এ বিমানের মতো মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে নজরদারির জন্য এরকম বিমান ব্যবহার করে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দক্ষিণপশ্চিমে গজনির তালেবান নিয়ন্ত্রিত ওই অঞ্চলটিতে একটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।

বিধ্বস্ত বিমানটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আরিয়ানা এয়ারলাইনের বলে প্রথমদিকে জানিয়েছিল আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ, কিন্তু তাদের কোনো বিমান নিখোঁজ হয়নি বলে দ্রুত জানায় আরিয়ানা।

আফগানিস্তানে হেলিকপ্টারের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হারানোর ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। আবার অনেক উঁচু দিয়ে ওড়া বিমান নামিয়ে আনার মতো বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তালেবানের নেই বলেই বিশ্বাস করা হয়।

এ ঘটনায় যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি একটি ই-১১এ, পুরো মার্কিন বিমান বাহিনীতে এটিসহ এ ধরনের মাত্র চারটি বিমান ছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে।

এই বিমানটি রণক্ষেত্রে থাকা সৈন্যদের সঙ্গে সদরদপ্তরের যোগাযোগ রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতো এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর এক পাইলট বিমানটিকে ‘ওয়াইফাই ইন দ্য স্কাই’ বলে বর্ণনা করেছিলেন বলে সিএনএন জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য