উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী অধিকৃত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর নতুন করে অভিযান শুরু করার পর ওই এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক তুরস্কের সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অভিযানে চালানো ব্যাপক বিমান হামলা মুখে এসব লোকজন পালাচ্ছে বলে ত্রাণ সংস্থার কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রায় নয় বছরে দেশটির বিভিন্ন অংশ থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ লোক বিদ্রোহী অধিকৃত ইদলিব প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন রাশিয়ার বিমান শক্তির ছত্রছায়ায় বিদ্রোহী অধিকৃত প্রদেশটি পুনরুদ্ধার করার পদক্ষেপ জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত সিরিয়ার সরকারি বাহিনী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী শুক্রবার থেকে ২২টি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে এবং ইদলিবের ভিতর দিয়ে যাওয়া জাতীয় একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইদলিব শহর থেকে ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণের মারাত আল নুমান শহর ঘেরাও করে ফেলেছে এবং শহরটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর্যায়ে আছে বলে অবজারভেটরি জানিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আসাদের পুরো সিরিয়া পুনরুদ্ধার করার উদ্যোগের ক্ষেত্রে মারাত আল নুমানের পতন একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

মারাত আল নুমান থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল ডিফেন্স বাহিনীর এক কর্মী রয়টার্সকে বলেন, “মারাত আল নুমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শহরটির বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে।”

মস্কো ও দামেস্ক জানিয়েছে, তারা আলেপ্পোর বেসামরিকদের ওপর হামলা জোরদার করা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ও উদ্ধার কর্মীরা জানিয়েছেন, বিমান হামলায় হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য বেসামরিক এলাকাগুলোও ধ্বংস হচ্ছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ভায়োলেট সংস্থার ত্রাণ কর্মী ফৌয়াদ সায়েদ ইসা রয়টার্সকে বলেন, “গত কয়েকদিনে আমরা নতুনভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া কয়েক হাজার লোক দেখেছি এবং গত চার দিনে কম করে হলেও প্রায় ৫০ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।”

অবজারভেটরির হিসাবে গত ১২ দিনে আলেপ্পো ও ইদলিব শহরের আশপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার লোক পালিয়ে গেছে। এদের অধিকাংশই সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে গেছে বলে ত্রাণ কর্মীরা জানিয়েছেন।

সিরিয়ার আসাদ বিরোধী বেশ কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী সমর্থন দেওয়া তুরস্ক ইতোমধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু শিগগিরই আরও সিরীয় সীমান্ত অতিক্রম করে তাদের ভূখণ্ডে আশ্রয় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য