করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চান্দ্র নববর্ষের ছুটি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অথবা কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলেছে সরকার।

সোমবার দেশটিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাস যাতে আরও ছড়াতে না পারে, সেজন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল হেলথ কমিশন।

নতুন ধরনের এ করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। আক্রান্ত হয়েছে আরও অন্তত তিন হাজার মানুষ।

এ পরিস্থিতিতে চীনা নববর্ষের ছুটি বাড়ানো হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বেশ কিছু বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলেছে সরকার।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং নতুন করোনাভাইরাসের উৎসস্থল বলে বিবেচিত মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী উহান পরিদর্শন করেছেন। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই এ প্রদেশের বাসিন্দা।

নোভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে উহান পরিদর্শনে যাওয়া সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নেতা লি।

নীল রংয়ের সুরক্ষা পোশাকে আবৃত ও মুখে মাস্ক পরা লি সেখানে প্রাদুর্ভাব রোধের পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রোগী ও চিকিৎসা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিমান চলাচল, ট্রেন ও অন্যান্য গণপরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে উহান কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। চীনের অন্য কয়েকটি শহরেও চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত উহানের ভিসা ও পাসপোর্ট সেবা বন্ধ থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এসব বিধিনিষেধ সত্ত্বেও শহরটির এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৫০ লাখ ছুটি ও অন্যান্য কারণে শহর ত্যাগ করেছে বলে উহানের মেয়র জানিয়েছেন।

চীনের বাইরে আরও অন্তত ১২টি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, তবে চীনের বাইরে কারও মৃত্যুর তথ্য এখনও আসেনি।

চীন শাসিত হংকং আট জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। গত ১৪ দিনের মধ্যে যারা হুবেই গিয়েছেন তাদের হংকং প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য