ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের স্বঘোষিত কাশ্মীরপ্রধান কারি ইয়াসিনসহ তিন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে ভারতীয় পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইয়াসিন গত বছর পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিল বলেও জানিয়েছেন তারা। পুলওয়ামার ওই হামলায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অন্তত ৪০ জওয়ান নিহত হয়েছিল।

রোববার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শ্রীনগরভিত্তিক চিনার কোরের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজিএস ধিলন ও কাশ্মীরের পুলিশ মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন ‘জঙ্গির’ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, জানিয়েছে এনডিটিভি।

‘জঙ্গিরা’ প্রজাতন্ত্র দিবসে যে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল তা বানচাল করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

গোলাগুলিতে তিন সেনা কর্মকর্তাও আহত হয়েছে, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

“ত্রালে বন্দুকযুদ্ধে তিন জঙ্গিকে নিস্ক্রিয় করেছি আমরা; এদের একজন কারি ইয়াসিন, যিনি কাশ্মীরের জইশ-ই মোহাম্মদের স্বঘোষিত প্রধান। তিনি গতবছরের ফেব্রুয়ারির বিস্ফোরণ ও লেথপোরায় বিস্ফোরণে জড়িত ছিলেন। তিনি স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ; নতুন সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিতও করে আসছিলেন,” বলেছেন বিজয় কুমার।

কাশ্মীর পুলিশের এ মহাপরিদর্শক জানান, তারা বেশ কিছুদিন ধরে শ্রীনগর ও এর আশপাশে স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলার বিষয়ে তথ্য পাচ্ছিলেন।

“আমরা বুরহান ও ইয়াসিরের নাম জানতে পারি। ইয়াসিরের সঙ্গে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মুসাও ছিলেন। ইয়াসিরের উপস্থিতির বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছিলাম, মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার পরই আমরা নিশ্চিত হতে পারবো কোনটি তার,” বলেছেন তিনি।

ইয়াসির ও মুসা পাকিস্তানের নাগরিক, বুরহান স্থানীয় বলেও জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

লেফটেনেন্ট জেনারেল ধিলন জানান, তিন ‘জঙ্গিকে’ হত্যার মাধ্যমে তারা জঙ্গিদের ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছেন।

“জইশ ই মোহাম্মদের এ সক্রিয় সদস্যরা প্রজাতন্ত্র দিবসে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল,” বলেছেন তিনি।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এখনও চলছে বলেও জানিয়েছেন এ সেনা কর্মকর্তা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য