চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। এমনই দাবি করেছেন উহানে কর্মরত এক নার্স। তবে দেশটির সরকার জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

মুখে মাস্ক ও শরীরে সুরক্ষিত স্যুট পড়ে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন এমন এক নার্স দাবি করেছেন, এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার।

এক ভিডিওতে ওই নারী বলেন, করোনা ভাইরাসের যেখানে আবির্ভাব আমি সেখানে। আমি এখানে সত্য বলতে এসেছি। এই মুহূর্তে হুবেই প্রদেশে যার মধ্যে উহান শহর ও সারা চীনজুড়ে করোনা ভাইরাসে ৯০ হাজার জন আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া ওই নার্স সবাইকে সতর্ক করে বলেন, আমি সবাইকে বলতে চাই যারা এই ভিডিও দেখছেন তাদের বাইরে বের হওয়া উচিৎ হবে না। কোনো পার্টি করবেন না, বাইরে কিছু খাবেন না। আপনারা এখন নিরাপদ থাকলে আগামী বছর আপনাদের পরিবারের সঙ্গে সুস্থভাবে মিলিত হতে পারবেন।

সরকার কি বললো তা কেয়ার করি না। আমি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই, বলেন এই নার্স।

এছাড়া তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দয়া করে সবাই মাস্ক, গ্লাস এবং পোশাক ডোনেট করুন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চীনের পক্ষে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না। যুক্তরাজ্যের এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিস অ্যানালাইসিসের বিজ্ঞানীরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, চীনের ভেতরে এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, যেটি এই ভাইরাসের এত বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারার ‘একমাত্র যৌক্তিক ব্যাখ্যা।’

বিজ্ঞানীদের অনুমান, একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আড়াইজন মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে।

তবে এই সংস্থাটি চীনা কর্তৃপক্ষের প্রয়াসের প্রশংসা করেছে, কিন্তু এরকম আশঙ্কাও প্রকাশ করছে যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ছড়িয়ে পড়ার হার ৬০% কমাতে হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে এই পদক্ষেপ নিশ্চিত করা সহজ নয়।

ভাইরাস সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন রোগীদেরও আলাদা করতে হবে যাদের মধ্যে সাধারণ সর্দিজ্বরের সামান্য লক্ষণও দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ল্যাংকাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল ভাইরাস আক্রান্তদের সংখ্যা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী এবছরে ১১ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

ইত্যিমধ্যে চীনের করোনাভাইরাস ১১ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অস্টেলিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে বলে দেশগুলো নিশ্চিত করেছে।

হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশম খাচ্ছে দেশটির চিকিৎসকেরা। এছাড়া আতঙ্কের খবর, দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা দেয়ার সরঞ্জামাদি ফুরিয়ে আসছে।

ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে হুবেই প্রদেশেরই ৫২ জন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুবেই প্রদেশের উহানের আশেপাশের শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করা ও তাদের চিকিৎসা দেয়ার মত সরঞ্জামাদি নেই।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উহানে কর্মরত এক নার্স সবাইকে আহ্বান করে বলেন, দয়া করে সবাই মাস্ক, গ্লাস এবং পোশাক ডোনেট করুন।

হুবেই প্রদেশের শিয়াওগান ফার্স্ট পিপল’স হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক আল জাজিরাকে বলেন, কয়েকদিন আগেই আমাদের সুরক্ষিত স্যুট শেষ হয়ে গেছে, এখন আমরা ‘ডিসপোজেবল রেইনকোট’ ব্যবহার করছি।

তিনি আরও বলেছেন, আমাদের সাহায্য করুন, এই কথাটি সবাইকে জানিয়ে দিন। আমরা জানিনা আর কতক্ষণ টিকে থাকতে পারি।

হুবেই’র এক নাগরিক দেশটির যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, দয়া করে আমাদের কথা ভুলে যাবেন না! হুবেইয়ে শুধু উহান শহর না। আমাদের সরঞ্জামাদি দরকার। আমাদের সাহায্য করুন।

হুবেইর আরেক শহর শিয়াংইয়াং যেখানে ৫ লাখ মানুষের বসবাস। সেখানের এক বাসিন্দা বলেন, শিয়াংইয়াংয়ে এমন কোন হাসপাতাল নেই যেখানে এই ভাইরাস নির্ণয় ও ও চিকিৎসা দেয়ার মত ব্যবস্থা আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য