তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবারের এ ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে অনেকগুলো ভবনও ধ্বসে পড়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শক্তিশালী এ কম্পন পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেও অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর ডজনের বেশি পরাঘাত তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দাদেরকে আতঙ্কিত করে তোলে।

ভূমিকম্পে রাজধানী আঙ্কারার সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার পূর্বের এলাজিগ প্রদেশেই ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী ফারেতিন কোসা জানিয়েছেন। এলাজিগের পার্শ্ববর্তী মালাতিয়া প্রদেশে প্রাণ গেছে আরও ৫ জনের।

উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে ফারেতিনের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও প্রদেশ দুটিতে ছুটে যান বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ৩০ জনের খোঁজে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে; ভূমিকম্পে ৫০০রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুলিমান সোইলু জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটিতে এলাজিগের আংশিক ধ্বসে পড়া একটি ভবনের ভেতর পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীদের উদ্ধার অভিযান চালানোর ফুটেজ দেখানো হয়েছে।

ধ্বসে পড়া অন্য একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা খালি হাতেই ইট-সুরকি সরাচ্ছে। অন্যান্য এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরাতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের ড্রিল মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

ভূমিকম্পটি সিরিয়া ও ইরানেও অনুভূত হয়েছে বলে দেশদুটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে। লেবাননের বৈরুত ও ত্রিপোলিতেও কম্পন টের পাওয়া গেছে।

তুরস্কে এর আগেও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।

১৯৯৯ সালের অগাস্টে পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমিত শহরে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

২০১১ সালে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভান ও এরসিসে অন্য এক ভূমিকম্প অন্তত ৫২৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য