দিনাজপুর সংবাদাতাঃ শীতে কাঁপছে দিনাজপুরসহ উত্তরের জনপদ। চারদিন ধরে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহের কারণে হাড়কাঁপানো শীতে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের সাথে হিমেল হাওয়ায় শীতটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত ও শৈত্যপ্রবাহে ছন্দপতন হয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার। সেই সাথে দেখা দিয়েছে শীতজনিত নানা রোগ।

আজ বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৭ শতাংশ। আর বৃহত্তর দিনাজপুরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতে দুর্ভোগ দুর্দশা বাড়ছে ছিন্নমূল মানুষের। কষ্টে পড়েছে বৃদ্ধ, শিশু এবং সকাল হলেই কর্মের সন্ধানে ছুটা মানুষদের। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বাজার-ঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এলাকার ছিন্নমূল মানুষেরা খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহের হাড়কাঁপানো শীতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু-পাখিও কাবু হয়ে পড়েছে। এই শীতের মাথাব্যাধা, কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসনালীর প্রদাহ ও সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা শীতজনিত রোগে কাহিল হয়ে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষরা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিসহ নানা শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জেন ডা. আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, যে সকল শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত এবং ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের চিকিৎসা চলছে। জেলার ১৩ উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অপরদিকে ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের আলুক্ষেত ও বোরো ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজি। বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। আলুর খেতে দেখা দিয়েছে লেটব্রাইটসহ বিভিন্ন রোগ।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, বোরো বীজতলা রক্ষা ও রোপনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। শীতে গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগীর নানা রোগ দেখা দিয়েছে। গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগী পালনকারীরা এ নিয়ে পড়েছে বিপাকে। তারা পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগীর শীত নিরাবণের যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

দিনের প্রথম ভাগ ঢাকা ধাকছে ঘন কুয়াশায়। কোথাও কোথাও কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও নিমিষেই ঘন কুয়াশায় তা ঢেকে যায়। তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করছে দিনের বেলায় । কনকনে ঠন্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষ। এরপরও প্রয়োজনের তাগিদে তাদের বের হতে হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিলো বলে জানিয়েছেন, আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন। বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৭ শতাংশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য