আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ শিক্ষক নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্ধের কারণে প্রায় ৪ বছল থেকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী দারুল হুদা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার বন্ধ হয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম । এমনকি প্রধান শিক্ষক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধান সরকারী বই বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

সরোজমিনে দেখাগেছে, মাদরাসার ভাঙ্গাচোরা সাইনবোর্ড সাঠানো রয়েছে। মাদ্রাসার ভবনের ফাঁকা একটি কামড়ায় তিন যুবক খোস গল্প করে ধুমপান করছে। বাকি কক্ষে রয়েছে তালাবদ্ধ। তিন যুবকের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নিজেকে ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক, মাইদুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক, সুরুজ্জামান মৌলভি শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়।

প্রধান শিক্ষক হামিদুল ইসলামের কাছে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা কতজন জানতে চাইলে সদুত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন। শিক্ষার্থী কোথায় জানতে চাইলেও শিক্ষার্থী হাজিরা বহি কতজন শিক্ষার্থী সেটি বলেন নি। তবে কিছুক্ষণ পরে তিনি জানালেন, পহেলা জানুয়ারী পাশের স্কুল থেকে কিছু শিক্ষার্থীকে ইজিবাইকে নিয়ে এসে মিষ্টি মুখ করিয়ে তাদের হাতে বই তুলে দিয়েছে। কিন্তু ওই সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন,কালোবাজারে কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছে প্রধান শিক্ষক হামিদুল ইসলাম।

এদিকে সহকারী শিক্ষক ও মৌলভি শিক্ষক পরিচয় দানকারী ওপর দুই ব্যক্তি বলেন, মাদরাসার শিক্ষকদের নূন্যতম কোন সুযোগ সুবিধা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান বন্ধ আছে।

এলাকাবাসীরা আরো জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত লেখাপড়া হত। কিন্তু সহকারী শিক্ষক থেকে রাতারাতি স্বঘোষিতভাবে হামিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের মাঝে দ্বন্দ সৃষ্টি হয়। এতেই মাদরাসাটি প্রায় চার বছর ধরে পাঠদান বন্ধ।

মাদরাসার জমি দাতা সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, ‘পূর্বের শিক্ষকরা অব্যাহতিপত্র দেয়ার পরে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তক্রমে মাদরাসার সভাপতি শামছুল ইসলাম ফয়জুর রহমানকে প্রধান শিক্ষক ও হামিদুল ইসলামকে জুনিয়র মৌলভী আমার পুত্রবধূ ফরিদা খাতুনকে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ও আব্দুল লতিফকে এবতেদায়ীক্বারী শিক্ষক নিয়োগ দেন। কিছুদিন পরে সহকারী শিক্ষক হামিদলু ইসলাম নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবী করে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র জালিয়াতি করে বিভিন্ন দপ্তরগুলো কাগজপত্র দাখিল করে। ওই তালিকায় সহকারী শিক্ষক ফরিদা খাতুন ও আব্দুল লতিফকে বাদ দেয়। এতে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

বাদপড়া অপর শিক্ষিকা ফরিদা খাতুন জানান, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও তা কোন সুরাহ পাইনি’। তিনি তাদের সকলের স্বপদে বহালের পরিবেশ নিশ্চিত ও স্বঘোষিত প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির হোতা হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে আদিতমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম আরিফ মাহফুজ জানান, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। কেউ যদি সরকারী বই কালো বাজারে বিক্রি করে তাহলে সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য