অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত একটি বড় ধরনের এয়ার ট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা তিন ক্রু নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছুক্ষণ পরে নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) দক্ষিণাঞ্চলে বিমানটি ও ওই তিন ক্রু নিখোঁজ হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

জরুরি বিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজধানী থেকে দক্ষিণে দুই ঘণ্টার দূরত্বে স্নোয়ি পবর্তমালা অঞলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

ওই পবর্তামালা অঞ্চলেই দাবানল নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ছিল লকহিডের তৈরি চার ইঞ্জিনের সি-১৩০ হারকিউলিস ওয়াটার-বোম্বিং বিমানটি। সেখানেই এটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানিয়েছেন এনএসডব্লিউযের মুখ্যমন্ত্রী গ্লাডিস বেরেজিকলিয়ান। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।

কী কারণে বিমান বিধ্বস্তের এ ঘটনাটি ঘটল তা জানা যায়নি। বিমানটি মাটিতে পড়ার পর বড় ধরনের অগ্নিগোলক দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

নিহত ওই তিন ক্রু-র পরিচয় শনাক্ত হয়নি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এনএসডব্লিউ রুরাল ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে অস্ট্রেলিয়া ওই তিন অভিজ্ঞ ও ‘সুপরিচিত’ ক্রুকে ভাড়া করে এনেছিল।

‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়’ ও ‘অসাধারণ’ ওই তিন ক্রু-র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুরাল ফায়ার সার্ভিসের কমিশনার শেন ফিটসিমন্স।

বিমান বিধ্বস্তের পর এ দিন সব বড় এয়ার ট্যাঙ্কারের অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিধ্বস্ত সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানটি কানাডার অগ্নিনির্বাপণ কোম্পানি কৌলসন এভিয়েশনের মালিকানাধীন ছিল। বিমানটি ১৫ হাজার লিটার পানি বা অগ্নিনিরোধক বহন করতে পারতো।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণপূর্বাঞ্চজুড়ে বয়ে যাওয়া আরেকটি দাবদাহের কারণে অবশিষ্ট দাবানলগুলো বৃহস্পতিবার ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও জোরালো বাতাস ফিরে আসার পর নিউ সাউথ ওয়েলসে ৮০টিরও বেশি দাবানল আরও জোরদার হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া দাবানলের হুমকির কারণে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে।

ক্যানবেরা বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য