দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বেতন নিয়ে জটিলতা ও বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম।

আজ বুধবার দুপুর ২টায় হাবিপ্রবি’র প্রশাসনিক ভাবনের সামনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, প্রগতিশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম ও সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা।

মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে জানানো হয় আর্থিক হিসাবে গড়মিলের অভিযোগতুলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ পলাশ এবং ফিসারিজ টেকনোলোজি অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড. ফেরদৌস মেহবুবের বেতন প্রদান গেল তিন মাস ধরে বন্ধ রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই দুই শিক্ষককে বেতন অবিলম্বে চালু এবং শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারিদের পদোন্নতির বাধা দুর করার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারিরা। ৭ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান চেয়েছেন তারা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. এস এম হারুন উর রশিদ, প্রফেসর ড. এটিএম সফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. সাইফুর রহমান এবং প্রফেসর ড. নাহিজম উদ্দিন প্রগতিশীল কর্মকর্তা ফোরামের নেতা শহিদুল ইসলাম, প্রগতিশীল কর্মচারি ফোরামের নেতা কুতুবুন ইসলাম এবং ছাত্রলীগ নেতা সাগরসহ অন্যান্যরা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও রেজিস্ট্রার সূত্র জানায়, আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন রিজেন্ট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ ফেরদৌস মেহবুব পিএইসডি ডিগ্রী অর্জনের পুর্বেই মিথ্যাচার করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২ টি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ করে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন ।

এব্যাপারে ৪৩ তম রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যগন একজন শিক্ষকের এ ধরণের নৈতিক স্খলনের জন্য বিস্ময় প্রকাশ করেন । পরবর্তিতে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বেতন থেকে অবৈধভাবে গ্রহণ করা অতিরিক্ত দুটি ইনক্রিমেন্টের টাকা কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রশাসন শুধুমাত্র রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে এবং তার সুবিধার জন্য কিস্তিতে এই টাকা কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয় কিন্তু তিনি হিসাব শাখা থেকে প্রেরিত বেতন শিটে সাইন না করে নিয়ম না মেনে নিজেই নিজের বেতন শিট তৈরি করে জমা দিয়েছেন।

এদিকে জনাব আব্দুর রশীদ পলাশ শরীরচর্চা শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন কালীন সময় ২০১৭ সালে ২৫২৬৮৮৩ নং চেকের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম উত্তোলন করেন। এর মধ্যে তিনি মাত্র ২,৫৬,০০০ টাকার সমন্বয় করার জন্য উপস্থাপন করেছেন যা পিপিআর ২০০৮ বিধি অনুযায়ী হয়নি।

এ ব্যাপারে হিসাব শাখা থেকে তাকে বার বার পত্র দিলেও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন নি। ফলে বাধ্য হয়ে তার বেতন হতে ২৫ কিস্তিতে টাকা কর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি হিসাব শাখা থেকে প্রেরিত বেতন শিটে সাইন না করে নিজে কাটাছেড়া বেতন শিট তৈরি করে জমা দিয়েছেন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়েল আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য