ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্রদের সমর্থন নিয়ে লেবাননে নতুন সরকার গঠন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

মঙ্গলবার হিজবুল্লাহ ও এর মিত্ররা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যাপারে একমত হলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দিয়াবের নতুন সরকারকে এখন জরুরি ভিত্তিতে লেবাননের অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ক্ষমতাভোগী অভিজাত রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভের মুখে গত বছরের অক্টোবরে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি পদত্যাগ করেন। তারপর থেকে ঋণগ্রস্ত দেশটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এর আগে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যুদ্ধের মধ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের এক সময়ের সমৃদ্ধ এ দেশটি।

এ পরিস্থিতিতে সংকট থেকে উত্তরণে লেবাননের বিদেশি সাহায্য দরকার বলে মন্তব্য করেছেন নতুন অর্থমন্ত্রী গাজী ওয়াজনি।

প্রভাবশালী সুন্নি নেতা সাদ হারিরির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গত মাসে হিজবুল্লাহ এবং তাদের মিত্ররা দিয়াবকে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।

লেবাননের খ্রিস্টান প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনও হিজবুল্লাহর মিত্র; দিয়াবের মনোনয়নে তারও সমর্থন ছিল।

তবে সাদের দলের সমর্থন না পাওয়ায় নতুন মন্ত্রিসভাকে বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থ সাহায্য আনতে বেশ বেগ পেতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সাদ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি ও উপসাগরীয় সুন্নি আরব দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

দিয়াবকে প্রধানমন্ত্রী বানালেও মন্ত্রিসভার বাকি পদগুলো নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হিজবুল্লাহ ও মিত্রদের মধ্যে ব্যাপক দরকষাকষি চলছিল। দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে পরিণতি ভোগ করতে হবে, শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটির এমন চরমপত্রের পর মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত হয় বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।

বিভিন্ন দলের সমর্থনপুষ্ঠ ২০ জন বিশেষজ্ঞ মন্ত্রী দিয়াবের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। লেবানন পার্লামেন্টের অর্থ ও বাজেট কমিটি উপদেষ্টা ওয়াজনিকে সমর্থন দিয়েছে স্পিকার নবি বেরির দল।

আরব লীগে লেবাননের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিফ হিট্টি হয়েছেন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী; প্রেসিডেন্ট আউনের ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট তাকে সমর্থন দিয়েছে।

নতুন সরকারকে বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত ‘উদ্ধারকারী দল’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দিয়াব। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি প্রথম সফরে উপসাগরের দেশগুলোতে যাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে; যদিও হিজবুল্লাহর সমর্থন থাকায় তার সরকারের পক্ষে পশ্চিমা দেশ ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে বিদেশি সহায়তা পাওয়া কঠিন হবে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে কয়েক মাস পর নতুন সরকার গঠিত হলেও বৈরুতের সড়কগুলোতে বিক্ষোভ থামেনি। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের কাছে একদল বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভাঙতে চেষ্টা করলে ও নিরাপত্তা রক্ষীদের দিকে পাথর ছুড়লে পুলিশও পাল্টা জলকামান নিক্ষেপ করে।

“এই সরকার আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না,” বলেছেন বিক্ষোভকারীদের একজন রবি আল-জেইন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য