নতুন নিউমোনিয়া সদৃশ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনে আক্রান্ত ৪৪০ জনের মধ্যে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন।

দেশটির হুবেই প্রদেশে জনসমাবেশ নিরুৎসাহিত করা ও হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোর করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে চীনের কর্তৃপক্ষগুলো এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আক্রান্তদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা আরও দুই হাজার ১৯৭ জনকে শনাক্ত করার কথা নিশ্চিত করে ভাইরাসটি ‘হাঁচি, কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে’ বলে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান লি বিন জানিয়েছেন।

চীনের বাইরে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ায় ও তাইওয়ানে আরও চার জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। নতুন এ ভাইরাসে তাদেরও একজন নাগরিক আক্রান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার জরুরি এক বৈঠকে মিলিত হচ্ছে।নতুন করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে কি না, বৈঠকে এটি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

গত বছরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ভাইরাসটির উদ্ভব হওয়ার পর রাজধানী বেইজিং, বৃহত্তম শহর সাংহাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চীনা নববর্ষের ছুটি উপলক্ষে দেশটির কোটি কোটি নাগরিক দেশের ভিতরে ও বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। শুক্রবার থেকে চীনে নববর্ষের ছুটি শুরু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রন্তের সংখ্যার প্রতিদিনের হালনাগাদ দিচ্ছে চীনের সরকার।

চীনের স্বাস্থ্য কমিশন দেশজুড়ে নাগরিকদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ও হুবেই প্রদেশের কর্তৃপক্ষকে ছুটির দিনগুলোতে জনসমাবেশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।

চীন বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোরও পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান লি জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে নতুন করোনাভাইরাসটির চীনের অপরাপর অংশে ও অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য