দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে সতীনের ছেলের বউকে ফাঁসাতে গিয়ে পাষন্ড মা নিজের ১৪ দিন বয়সি নবজাতককে গলাটিপে হত্যার দায় স্বীকার করায় হত্যাকারী মা নার্গিস বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে সদরের চওড়া পাড়া ঘটনা স্থলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ পাষন্ড মা নার্গিস বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে পাষন্ড মা নার্গিস আদালতে শিশু হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারকের সামনে জবাববন্দি দিয়েছে।

এর আগে গত ১৭ই জানুয়ারী দিনাজপুর সদরের চওড়া পাড়ার ইয়ানুর নামে ১৫ দিনের এক নবজাতককে লবন খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ ভাবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঐদিনও নার্গিস বেগমের স্বামী নূর ইসলাম বাদি হয়ে ছেলের বউকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বাধ্য হয়ে ছেলে হাসিনুর রহমানের স্ত্রী আরফাতুন মিমি (২২) গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরন করেন।

জানা যায়, সদর উপজেলার চোওড়া গ্রামের নুর ইসলাম প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী নারগিস বেগম গত ১৫ দিন আগে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। আকিকা করে তার নাম রাখা হয় ইয়ানুর বেবী। গত শুক্রবার দুপুরে শয়ন ঘরে ইয়ানুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ সময় তার মুখে ফেফনা ও লবন দেখা যায়। এতে সন্দেহ হয় যে নবজাতক শিশু ইয়ানুর বেবীকে লবন খাইয়ে হত্যা করা হয়। আর এই হত্যার সঙ্গে একই বাসায় থাকা সৎ ভাবির আরফাতুন মিমিকে সন্দেহ করা হয়। এ সময় তাকে গ্রামের লোকজন আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে সৎ ভাবির আরফাতুন মিমিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। নবজাতকের লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ দুলাল জানান, তথ্য উপাত্ত ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করার পর মা নাগিস বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজ সন্তানকে নিজেই গলাটিপে হত্যার দায় স্বীকার করায় তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

দিনাজপুর কোতয়ালীর থানার ওসি (তদন্ত) বজলুর রশিদ ১৪ দিন বয়সি নিজের শিশু সন্তানকে হত্যা করায় পুলিশ মা নার্গিস বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে বিচারকের সামনে সে শিশু হত্যার পুরো বর্ননা প্রদান করেন। আদালত তা রেকর্ড করে নেন। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে প্রেরন করেন ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য